“রাজা আসে যায় রাজা বদলায় / নীল জামা গায় লাল জামা গায় / এই রাজা আসে ওই রাজা যায় / জামাকাপড়ের রঙ বদলায় / দিন বদলায় না” – এহেন বলিষ্ঠ শব্দের প্রতিধ্বনি যার লেখনীতে, তাঁকেও দরজায়-দরজায়, মেলায়, গ্রামে ঘুরে ঘুরে নিজের বই বিক্রি করতে হয়েছে- ভাবা যায়? আজ সেই কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর প্রয়াণ দিবস। যার সব কবিতাই মানুষের জন্য, যার কবিতার সব যন্ত্রণাই মানুষের লড়াইয়ের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে সেই মানুষটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করার পাশাপাশি আসুন চিনে নেওয়া যাক মানুষ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
![]() |
| বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২-রা সেপ্টেম্বর বৃটিশ ভারতের (অধুনা বাংলাদেশের) ঢাকার
বিক্রমপুরে। পড়াশোনা কলকাতার জগবন্ধু ইনস্টিটিউশনে এবং পরে রিপন কলেজে। জগবন্ধু
ইনস্টিটিউশনে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে। এক
বন্ধু একদিন আড়ালে ডেকে বললো- মরতে ভয় পাস?
সে বয়সে ও কথার একটাই উত্তর হয়- না, বীরেন্দ্র সেই
উত্তরই দিয়েছিল। সে পাড়ার অনুশীলন দল-এর দু’একজন নেতার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলো। কাজ ছিলো চিঠিপত্র আর
খবর পৌঁছে দেওয়া। তাঁদের শিক্ষা ছিলো- নাটক নভেল পড়বে না, ধর্মগ্রন্থ
পড়বে, মেয়েদের দিকে তাকাবে না- এসব যুক্তিসঙ্গত লাগতো না। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে
নানা প্রশ্ন জাগলো। ক্রমেই দলাদলি ও সংকীর্ণতার আভাস পেলেন। নেতাদের ওপর শ্রদ্ধা
থাকছিলো না। একদিন একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কথাপ্রসঙ্গে পূর্ববঙ্গবাসীদের প্রতি
ঘৃণামিশ্রিত কটূক্তি করেন। খুব আঘাত পান বীরেন্দ্র। উপলব্ধি করেন, তিনি যে
নেতাদের কথায় প্রাণ দেবার জন্য প্রস্তুত তারাই কত গভীরভাবে ঘৃণা করেন বীরেন্দ্রর
মত বাঙালদের। তারপরই সরে আসেন দল থেকে।
ক্লাস টেনের ছাত্র যখন তখন একবার পাড়ার কিছু বন্ধুর সঙ্গে এক বামপন্থী মিছিলে যোগ দেন। বামপন্থা সম্পর্কে ভাবনার সেই শুরু। সময়টা ১৯৩৫ সাল মতো। ছেলেবেলা থেকে বই পড়েছেন প্রচুর। বাবার ছিল বাক্সভর্তি বই।
ম্যাট্রিক পাশ করে রিপন কলেজে ভর্তি হন বীরেন্দ্র। সেই সময়ের স্মৃতিচারণে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন, “কলেজের ছেলেরা মার্কসবাদ নিয়ে আলোচনা করতো- নিজেদের মার্কসবাদী বলতো কেউ কেউ। বামপন্থী হওয়াটা ছিল ফ্যাশন। কিন্তু সাধারণ কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের একটা উদাসীন ও উন্নাসিক মনোভঙ্গি ছিলো। কোন প্রশ্নের ঠিকমতো জবাব কেউ দিতেন না। কিছু বুঝিয়েও দিতেন না। আমার কোন পলিটিক্যাল পড়াশোনা ছিলো না। সুভাষচন্দ্রকে যখন বামপন্থীরা নিন্দা করেন তখন তা ভালো লাগেনি। ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম- মনে পড়ে। এইভাবে কিছুটা বন্ধুদের সঙ্গ থেকে, কিছুটা নানা জায়গায় যাতায়াত করতে করতে ১৯৪০ নাগাদ বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কিছুটা যোগাযোগ হয়ে যায়। ফোর্থ ইয়ারের পর কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দিই। অনিয়মিতভাবে দলের কিছু কিছু কাজ করি। প্রগতিশীল লেখক সঙ্ঘের কিছুটা সংস্পর্শে আসি। কিন্তু পুরোপুরি দলীয় ব্যক্তিদের- নেতাদের তখনও আমার খুব মন থেকে ভালো লাগতো না।”
কলেজে পড়াশুনার সময়কালেই খাতায় কবিতা লেখার শুরু বীরেন্দ্রর। বিশেষ ছাপা হতো না। পার্টির সূত্রেই ১৯৪২ সালের কাছাকাছি সময় থেকে ‘অরণি’ পত্রিকায় নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫- এর মধ্যে ‘বসুমতী’তেও অনেক লেখা বেরিয়েছে। একটু একটু করে পরিচয়ের সীমানা বাড়ে। কবি বিমলচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে ১৯৪৪-এ খুব ঘনিষ্ঠতা হয়। অরুণ মিত্রের বাড়িতেও যেতেন। ১৯৪৪ থেকে ‘কবিতা’, ‘পরিচয়’ ও ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় কিছু কিছু লেখা প্রকাশ পায়। কলেজে বীরেন্দ্রর অধ্যাপক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। খুব ঘনিষ্ঠ কিছু না হলেও পরিচয় ছিলো। ‘সাহিত্যপত্র’ যখন বেরোলো প্রথম তিন সংখ্যাতেই কবিতা বের হয় বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯৪৬–‘৪৭ এ প্রচুর লেখা লেখেন; ছাপাও হয় সেসব।
১৯৪২ থেকে চাকরি করেন দাদার প্রতিষ্ঠান- ঢাকুরিয়া ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশনে। তখন দেশি ব্যাঙ্ক ছিল সব। ১৯৪৮-এ সেই ব্যাঙ্ক ফেল করে। বীরেন্দ্রও বেকার হয়ে যান। পাঁচ বছর বেকার ছিলেন। ১৯৪৪-এ বিয়ে করেন। সংসার চালানোই তখন দায়। ‘ক্রান্তি’ এবং ‘গণবার্তা’য় কিছু কিছু কাজ করতেন। ‘ক্রান্তি’-তে মাসে কুড়ি আর ‘গণবার্তা’ থেকে মাসে চল্লিশ- এটাই নিয়মিত আয় ছিলো। ‘পূর্বাশা’য় চাকরি পান তারপর। কিন্তু মাসের শেষে মাইনে আর পান না। অনেক ঘোরাঘুরির পর একশো টাকা আদায় হতেই আর যাননি। অভাবের তাড়নায় মরিয়া বীরেন্দ্র রেসেও নিজের ভাগ্য যাচাই করেন এবং ব্যার্থ হন।
‘ক্রান্তি’ আর ‘গণবার্তা’য় কাজ করার সময়ে যোগাযোগ হয় আর এস পি-র সঙ্গে। সে যোগ ছিলো শেষ জীবন অবধি। তবে প্রধানত পত্রপত্রিকাগুলির সঙ্গেই তাঁর সংযোগ ছিলো। আর এস পি-র মত ছিলো- সাহিত্যে পার্টির নির্দেশ প্রাধান্য পাবে না। তাঁরও মত তাই। ওরা পত্রিকা চালানোর ব্যাপারে কোন বিধিনিষেধ আরোপ করতো না। এবং সর্বোপোরি, অন্য কোথাও লেখাতেও কোন বাধা ছিল না বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।
তারপর ১৯৫২-তে চাকরি পান নিজের বড়দার চায়ের ব্যবসায়ে। যেতে হলো পূর্ববাংলা- এখন বাংলাদেশ। বেতন একশো টাকা। কিছুদিন পরে ছেড়ে চলে আসেন। তারপর সেই পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দেন। ব্যবসা তাঁর ভালো লাগে নি, রীতিনীতিও বুঝতেন না।
নকশালপন্থীদের সঙ্গে তাঁর যোগ নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজে বলেছেন, “প্রথম প্রথম কাগজে পড়তাম ওদের কথা। কোন উৎসাহ বোধ করিনি। মতামতের সমর্থকও ছিলাম না। কোন কোন কাজের প্রবল বিরোধী ছিলাম। স্কুল আক্রমণ করার, ছাত্রজীবন নষ্ট করার কোন যুক্তি নেই। স্কুল ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে কোন বিপ্লব হয় না। কিন্তু তারপর ক্রমেই সরকারের অত্যাচার দেখতে দেখতে অস্থির হয়ে উঠলাম। এই পাড়ার অল্প বয়সের ছেলেরা- শুধু মিছিল করছে, সভা করছে বলে- যেভাবে অত্যাচার হয়েছে তাদের ওপর, জেলে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে মেরে ফেলা হয়েছে- তারা তো ক্রিমিনাল নয়। দেশের জন্য ভিন্ন এক শাসনব্যবস্থার কথা ভাবছে- এই অপরাধে গণতান্ত্রিক সরকার যদি এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালায় তাহলে তার প্রতিবাদ করা উচিত মনে করেছি। সেজন্যই তাদের মনে করে, তাদের উদ্দেশে, অত্যাচারের প্রতিবাদে আমার কবিতা। আমার প্রতিবাদ শুধু সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। আমার সমর্থন শুধু নতুন সমাজব্যবস্থার চিন্তার প্রতি।”
ঝোলার ভেতরে থাকত কবিতার বই। মন্ত্রের মতো সব লাইন। কবিতা প্রেমিকদের মুখে মুখে ফিরত— কে ভুলতে পারে, ‘মাটি তো আগুনের মতো হবেই/ যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো/ যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও/ তোমার স্বদেশ তাহলে মরুভূমি।/ যে মানুষ গান গাইতে জানে না/ যখন প্রলয় আসে, সে বোবা ও অন্ধ হয়ে যায়।’ দরজায়-দরজায়, মেলায়, গ্রামে ঘুরে ঘুরে নিজের বই বিক্রি করেছেন। ত্রিশ বছর ধরে এ ভাবেই কেটেছে। বইমেলাতেও দেখা যেত, নিজের বই নিজেই বিক্রি করছেন। কাঁধে ঝোলা, মালকোঁচা মেরে ধুতি, পাঞ্জাবি। এই তাঁর পোশাক। ভালবাসতেন বিড়ি, সিগারেট চা। প্রিয় খাদ্য মুড়ি আর জিলিপি। বাঙাল ভাষায়, ঢাকাই টানে কথা বলতেন। চশমা, চটি, কলম, ছাতা হারাতেন প্রায়ই। কবিতা মাথায় এলে হাতের কাছে যা পেতেন— সিগারেটের প্যাকেট বা বাসের টিকিট— লিখে রাখতেন তাতেই। তিনি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। জীবন যাপনে, নিজের আদর্শ, স্বাধীনতা ও সততার প্রতি দায়বদ্ধতায় অন্য কারও সঙ্গে যাঁর মেলে না। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিরল সাহস আর মানুষের প্রতি অনিঃশেষ ভালবাসার জন্য যাকে হামেশাই রাখা হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আর ঋত্বিক ঘটকের পাশে।
ঋত্বিক ঘটকের মতোই দেশভাগ তাঁকে আলোড়িত করেছিল। আক্ষেপ করেছিলেন, ‘‘আমার জন্মভূমিকে এখন আমি স্বদেশ বলতে পারি না।’’ চল্লিশের দশকে অনেক কবি-লেখকের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা। ছিলেন রাম বসু, মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্তের মতো কবি, আবার অমিয়ভূষণ মজুমদারের মতো গদ্যকার, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের মতো গায়ক। বলতেন, ‘‘এদের সবাইকে নিয়ে আমার যে নিজস্ব পৃথিবী তার পায়ের নীচে কিছু শক্ত মাটি রয়ে গেছে, সেখানেই আমার অথবা আমাদের জোর।’’ বন্ধু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অনুরোধে ‘দেশ’-এ লিখেছেন। কখনও ঢুঁ মারতেন প্রেমেন্দ্র মিত্র বা দিনেশ দাসের বাড়ি। কখনও শিয়ালদায় সত্যপ্রিয় ঘোষের বাড়ি। শান্তিনিকেতনে অশোকবিজয় রাহা এক বার অসুস্থ বীরেন্দ্রকে সুস্থ করে তুলেছিলেন।
প্রতিনিয়ত অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। তবু সরকারি বৃত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। ক্ষমতাকে তীব্র শ্লেষ করে এক বার লিখেছিলেন, ‘রাজা আসে যায়/ রাজা বদলায়।’ আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রখর। বলতেন, কবি যত শক্তিমানই হোন, তাঁকে ভাল মানুষও হতে হবে।
তরুণ কবিদের প্রতি ছিল গভীর মমত্ববোধ। তাঁদের ভাল কবিতা লেখার প্রেরণা দিতেন, কবিতা নিয়ে নিজেই পাঠিয়ে দিতেন নানা পত্রপত্রিকায়। কলকাতার পোশাকি সভাসমিতির আড়ম্বর উপেক্ষা করতেন, বরং যেতে পছন্দ করতেন গ্রামে-গঞ্জে তরুণ লেখক-কবিদের ছোট সভায়।
বাংলা আধুনিক কবিতার প্রেম, শূন্যতা বা নাগরিক দৈনন্দিনতার চেনাশোনা মোটিফকে ছুঁয়ে রেখেও বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার পঙক্তি যেন উষ্ণতা পায় আরো গভীর কোনো আবেগের। যে আবেগ মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসার শপথ হয়ে, সহযোদ্ধার ব্যথায় কাতর অশ্রুবিয়োগে, অন্যায়ের দিকে সোজা আঙুল উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠতে পারে, “রাস্তা কারো একার নয়!” কবিতা ও শ্লোগানের সূক্ষ্ম বিভাজিকা মিলেমিশে যায় বীরেন্দ্রর কবিতায়, তবুও কবিতার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা তাঁকে বাধ্য করেছে আদর্শ ও রাজনীতির গভীর থেকে অক্ষরকে আপোষহীন ভাবে সাজিয়ে তুলতে।
ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। বলতেন, ‘‘নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করি। কোনো তত্ত্বই আমি কোনোদিনই তেমন বুঝিনি।’’ চিনের বিপ্লবের কবিতার চেয়ে বেশি পছন্দ ছিল হাজার বছরের পুরনো চিনের কবিতা। বলতেন, কমিটেড হতে গেলে কোনও দলে নাম লেখাতে হবে কেন?
বলতেন, প্যাশন, ভিশন, মিশন, এই তিনটের কোনও একটাও কোনও কবির কবিতায় প্রবল ভাবে থাকলে সে কবিতা পাঠককে টানবেই। জীবনের শেষ দিকে লিখেছিলেন, "প্রেমের গান গাইতে গাইতে হঠাৎ গলা থেকে একঝলক রক্ত উঠে আসে। সময়, স্বদেশ, মনুষ্যত্ব, কোথাও যদি একসূত্রে গাঁথা যেত?"
বীরেন্দ্রর কবিতা বহু সময়েই এতটা অকপট, এতটাই দ্ব্যর্থহীন যে তাতে কবিতার মায়াবী প্রলেপের ছন্দপতন ঘটে যায়। সমসাময়িক কবি, সমালোচকদের কাছে তিনি বহুবার তকমা পেয়েছেন ‘অস্থির কবি’ হিসেবে। কিন্তু তাতে বীরেন্দ্রর জবাব থাকে এই, যে শুদ্ধ কবিতার প্রতি তিনি আর আস্থাশীল নন, কারণ কবিতার খাতিরে কবিতা লেখার দিন ফুরিয়েছে।
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১১-ই জুলাই ৬৫ বৎসর বয়সে কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী শোক মিছিল স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আয়োজিত হয়। সামনে, সবার সামনে বীরদর্পে হাত তুলে গান করতে করতে এগিয়ে চলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। বীরেন চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা—প্রতুল কর্তৃক সুরারোপিত—সেই গান। প্রতুলের স্বর, তার সঙ্গে শ’খানেক তরুণের কন্ঠস্বর, মিলে মিশে তৈরি হচ্ছিল এক ভিন্নধর্মী ঐকতান। বীরেন্দ্র ভক্তবৃন্দ, তাঁর কবিতার সুরারোপ, ব্যতিক্রমী শোক মিছিল—সে কথা আজও ভোলেনি শহর কলকাতা।
(তারিণী খুড়ো)
