কবি হতেই জন্মেছিলেন পাবলো নেরুদা

আমি কবিতা লিখি না। আমি কবিও নই। আপনারা আমাকে কেন কবি বলেন, তা আমি জানি না। আমি শুধু শ্রমিকের সেঁত-সেঁতে ঘামের গন্ধ নিতে চেষ্ঠা করি, শ্রমিক যখন কয়লা খনি থেকে উঠে এসে একটু বিশ্রাম নেয়, তখন তাঁর চোখের ভাষা বোঝার চেষ্ঠা করি, তাঁদের জীবন ও জীবনের বোধ-অনুভূতি-কষ্টগুলো উপলদ্ধি করি এবং তা কোন কাগজে লিখে রাখি নিজেরই প্রয়োজনে। বলুন এজন্য কি আমাকে কবি বলা যায়? আমি কবি হতে চাই না। আমি তাঁদের একজন বন্ধু হতে চাই এই বক্তব্য, এই ভাবনা যার, সেই শ্রমিক বন্ধু পাবলো নেরুদার আজ জন্মদিন। আসুন তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি চেনারও চেষ্টা করি। 

পাবলো নেরুদা 
নেরুদার আসল নাম নেফতালি রিকার্দো রেয়েজ বাসোয়ালটো। সান্তিয়াগোর ৩৫০ কি.মি দক্ষিণে চিলির লিনারেস প্রদেশের অন্তর্গত পারাল -এ ১৯০৪ সালের ১২-ই জুলাই জন্ম। তাঁর বাবা জোস ডেল কারমেন মোরালেস ছিলেন রেল শ্রমিক আর মা নেফতালি বাসোয়ালটো ওপাজো ছিলেন শিক্ষয়ত্রী। নেরুদার জন্মের ২ মাসের মধ্যে তাঁর মা টিবি-তে মারা যান। 

নেরুদার বাবা ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন দক্ষিণ চিলির সীমান্ত অঞ্চলের জঙ্গল কেটে নতুন বসতি গড়ে ওঠা জনপদ তেমুকো-তে। সেখানে রেললাইন সংলগ্ন কাজ, রাস্তা তৈরির ঠিকাদারির কাজ নিলেন। এখানে এসে নেরুদার বাবা মোরালেস, ক্যান্ডিয়া মালভারদে নামক এক মহিলাকে বিয়ে করেন। সৎ মায়ের কাছে কেটেছে নেরুদার শৈশব। নিজের মা না হলেও সৎ মা নেরুদাকে ভালবাসতেন নিজের সন্তানের মতোই। নিজের সন্তানের সঙ্গে কোনদিন বিভেদ করেননি তিনি। নেরুদাও অসম্ভব ভালোবাসতেন মা’কে। 

১৯১০ সালে তেমুকো-র বয়েজ লাইসিয়াম স্কুলে ভর্তি হন নেরুদা এবং সেখান থেকেই ১৯২০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। এই স্কুলে পড়ার সময়েই রোগা, লম্বা নেরুদা তেমুকো গার্লস স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি গ্যাব্রিয়েলা মিস্ট্রাল’-এর উৎসাহে কোনোরূপ বাচবিচার না করে নানা ধরণের বই পড়েন। মিস্ত্রাল তাঁর অসামান্য সৃষ্ঠির জন্য পরবর্তীকালে নোবেল পুরাস্কার পান। অল্প বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন নেরুদা। মিস্ত্রাল নেরুদার মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ কবির সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করেছিলেন।  তিনি শুধু তাঁকে উৎসাহিত করতেন এবং নিয়মিত তাঁর কবিতা সংশোধন করে দিতেন। 

কবি হওয়ার বিষয়টি নেরুদার বাবা পছন্দ করতেন না। তাই বাবার চোখ এড়াতে কবিতায় ব্যবহার করলেন ছদ্মনাম। চেক কবি জাঁ নেরুদার নামানুসারে (পাবলো নেরুদা) কবিতা লিখতে শুরু করেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি লা মানানাপত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। 

তেমুকোর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল একদম ভিন্ন রকম। চারদিকে ঘন সবুজ অরণ্য। কোথাও কোথাও অরণ্য নির্মূল করে গড়ে উঠেছে চাষের ক্ষেত। সর্বত্রই এক আদিম বন্য প্রকৃতি। কোন ধর্মীয়, সামাজিক নিয়ম-কানুনের বেড়াজাল নেই। মুক্ত অরণ্যের মতই মানুষের বেড়ে ওঠা। অরণ্যের নিত্য সঙ্গী হয়ে সারা বছর ঝরে পড়ে অবিশ্রাস্ত বৃষ্টি। শিশু নেরুদার জীবনে এই বৃষ্টি আর অরণ্য গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সকলের অজান্তেই তাঁর মধ্যে জেগে উঠেছিল এক কবি সত্তা। যখন তাঁর বয়স মাত্র দশ, তখনই শুরু হয় তাঁর কবিতা লেখা। শিশুমনের কল্পনায় যে ভাব জেগে ওঠে তাই লিখে ফেলেন। 

১৯২১ সালে স্কুলের শেষ পরীক্ষায় ‍উত্তীর্ণ হয়ে নেরুদা চিলির সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্রস্থল সাস্তিয়াগোতে চলে এলেন। শিখতে আরম্ভ করলেনফরাসী ভাষা। কলেজে ভর্তি হলেন; কিন্তু পড়াশুনায় তেমন মন নেই। কেমন ছন্নছাড়া ভাব! অল্পদিনের মধ্যেই কয়েকজন তরুণ কবির সঙ্গে পরিচয় হল তাঁর। তাঁর কবিতা তখন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে আরম্ভ হয়েছে। 

১৯২৩ সালে চিলির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'এদিসিওনেস ক্লারিদাদ' থেকে তাঁর প্রথম বই 'Crepusculario' (গোধূলি) প্রকাশ পায়। এই সময় নেরুদা জীবনে এল এক সুন্দরী তরুণী আলবার্তিনা। প্রথম প্রেমের মুকুল বিকশিত হওয়ার আগেই দুজনের সম্পর্কে ভাঙন ধরে। জীবনে থেকে হারিয়ে গেলেও আলবার্তিনাকে কবি অমর করে রেখেছেন তাঁর অসাধারণ সব প্রেমের কবিতায়। এই কবিতাগুলা নিয়ে ১৯২৪ সালে কুড়ি বছর বয়েসে প্রকাশিত হল তাঁর দ্বিতীয় কবিতার বই ''ভিন্তে পোয়েমাস দি আমোর ইউনাক্যানসিওন দেসেস পেরেদা' (কুড়িটি প্রেমের কবিতা ও একটি হতাশার গান)। তখনই সেভাবে জনপ্রিয় না হলেও এই বইটির কয়েক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় পরবর্তী সময়ে। এখনও হচ্ছে। প্রায় পঞ্চাশটি ভাষায় অনুদিত হয়। এক সদ্য যুবকের তীব্র আত্মরতি, অসম প্রেম, প্রেমের অব্যক্ত প্রকাশ ও আবেগের অসঙ্গতি -- সবই এ বইতে ধরা আছে। এইসব কবিতায় নারী শুধু শরীর-সর্বস্ব সত্তা নয়। কবি সেই নারীর মধ্যে রহস্যের সন্ধান পেয়ে তাকে প্রসারিত করে দিয়েছেন নদী, জল, গাছ, ফুল প্রায় সমস্ত বিশ্বলোকে। 

১৯২৫ শে প্রকাশিত হয় 'রেসিডন্সিয়া এন লা তিয়েরবা'। এই বইতে পাওয়া যায় বিভ্রান্তিকর এলোমেলো পরিবেশ। চর্তুদিকের সব কিছু জীবন্ত, কিন্তু লক্ষ্যহীন। কবির প্রশ্ন - কোথা থেকে, কার মধ্য দিয়ে যেতে হবে কোন উপকূলে? 

১৯২৬ সালে প্রকাশিত হল দুটি রচনা। এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছোট উপন্যাস। আর একটি কবিতার বই 'Venture of Infinite man' এই বইটির প্রতিটি কবিতায় প্রচলিত শৈলীর সমস্ত প্রথা ভেঙে নিয়ে এলেন নতুন আঙ্গিক, ছন্দ। মানব চরিত্রের এক অস্থিরতা, নিঃসঙ্গতাই এখানে যেন প্রকট হয়ে উঠেছে। 

এদিকে ছেলে পড়াশুনা বন্ধ করে কবিতা লিখছে, এই ব্যাপারটা ভাল লাগল না নেরুদার বাবার। তিনি সমস্ত মাসোহারা বন্ধ করে দিলেন। মহা ভাবনায় পড়ে গেলেন নেরুদা! শুরু হল চাকরির খোঁজ। কয়েক মাস চেষ্ঠা করেও কোথাও চাকরি পেলেন না। সেই সময় চিলির বিদেশ দপ্তর থেকে রেঙ্গুন অফিসে পাঠাবার জন্যে একজন লোকের খোঁজ করা হচ্ছিল। চাকরিটা নিলেন নেরুদা। সালটা ১৯২৭। রেঙ্গুন তখন ব্রিটিশ অধীনস্ত বার্মার রাজধানী। এখানে পরিচিত মানুষ নেই। স্থানীয় মানুষেরা স্প্যানিশ ভাষা জানে না। অফিসের দু-চারজন যেটুকু ভাঙা স্প্যানিশ জানে তাতেই কোন রকমের কথাবার্তা চালান। অসহনীয় পরিবেশ, কথা বলবার লোক নেই। তাঁর উপর সব মাসে ঠিক মত মাইনেও পান না; তবুও রেঙ্গুনে রয়ে গেলেন। এই নির্জন প্রবাসে তাঁর একমাত্র সঙ্গী কবিতা। তীব্র হতাশা, পানাসক্তি কবিকে গ্রাস করে। এখানে থাকাকালীন লেখা 'ঐক্য' কবিতায় কবি লেখেন, "আমি কাজ করি নিঃশব্দে, আমার নিজের ওপরেই ঘুরপাক খাই,/ কাক যেমন মৃত্যুর ওপর, কাক যেমন শোকের ওপর"। 

ডিসেম্বরের শেষের দিকে তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে মাত্র অল্প কয়েক দিনের জন্য ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন। জানুয়ারির শুরুর দিকেই তিনি কলকাতা থেকে আবার শ্রীলঙ্কায় ফেরেন। এই সফরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় মহাসভার জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এসে তাঁর দেখা হয়েছিল মতিলাল নেহরু ও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে। দেখেছিলেন সদ্য বিলেত ফেরত জওহরলাল নেহরুকে। তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ স্বীকার করি বেঁচেছিলাম (Confieso Que he vivido : memorias ) -এ তিনি এর উল্লেখ করেছেন। 

বার্মায় থাকাকালীন পরিচয় হয় এক তরুণীর সঙ্গে; নাম জোসি ব্লিস। তার মধ্যে বিপুল উদ্দামতা দেখে ভাল লেগে গিয়েছিল নেরুদার। প্রেমে পড়ে গেলেন। কিছু দিন যেতেই নেরুদা অনুভব করলেন মেয়েটির মধ্যে আছে এক আদিম বন্য উদ্দামতা। মনের মধ্যে যদি কখনো সন্ধেহ দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে ছুরি দিয়ে হত্যা করবে নেরুদাকে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন নেরুদা। সৌভাগক্রমে সেই সময় সিংহলে তাঁর বদলির আদেশ হল। কাউকে কিছু না জানিয়ে রওনা হলেন সিংহল। মেয়েটি নেরুদা সন্ধান পাওয়ার জন্যে সিংহল পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তার এই বন্য প্রেমকে নেরুদা বহু কবিতায় অবিস্মরণীয় রূপ দিয়েছেন। বার্মায় থাকাকালীন লেখা কবিতার সংকলন করে পরে প্রকাশিত হয় তাঁর একটি বিখ্যাত  কাব্যগ্রন্থ Residence on earth (পৃথিবীতে বাসা)। 

সিংহলে অল্প কিছুদিন থাকার পর এলেন বাটাভিয়ায় (জাভা)। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে। বাটাভিয়াতে ডাচ তরুণী মারিয়া হ্যাগেনার এস্তোনিয়েতাকে দেখে বিবাহ করবার কথা মনে হল। মারিয়া ছিলেন ব্যাংককর্মী। বিয়েও করেন তাকে। মারিয়া ডাচ মেয়ে, স্প্যানিশ ভাষা জানতেন না। নেরুদার চেষ্টা স্বত্বেও স্প্যানিশ ভাষা শেখার ব্যাপারে তাঁর সামান্যতম আগ্রহ ছিল না। নেরুদার কবিতার ব্যাপারেও ছিলেন উদাসীন। দুজনের মধ্যের মতাদর্শগত, দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য ক্রমশই প্রকট হয়ে উঠতে থাকে। ১৯৩৬ সালে তাঁরা পৃথক হয়ে যান। 

বাটাভিয়াতে থাকতে মন চাইল না, ফিরে এলেন তেমুকোতে বাবার কাছে। এরপর নেরুদার সম্পর্ক গড়ে উঠে দেলিয়া দেল কাররিলের সঙ্গে। 

স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৩৬-৩৭ সালে প্যারিতে ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়ে তোলেন এবং নানা স্থানে বক্তৃতা দেন নেরুদা। 

১৯৪২ সালে নেরুদা কাব্য সংকলন কান্তো আ স্তালিনগ্র্যাদোপ্রকাশিত হয়। ১৯৪৩ সালে নুয়েভো কান্তো দে আমোর আ স্তালিনগ্রাদোনামে আরেকটি বই রচনা করেন। এই দুটো কবিতার বইয়ে তার কমিউনিস্ট চেতনা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিলির কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন তিনি। এই সময় তিনি চিলির রাষ্ট্রদূত হয়ে মেক্সিকোতে ছিলেন। ১৯৪৫ সালের ৪ মার্চ আতাকামা মরু অঞ্চলের আন্ডোফাগাস্তা ও তারাপাকা প্রদেশের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে সিনেটর নির্বাচিত হন নেরুদা। ১৯৪৬ সালে রাডিক্যাল (Radical) পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গ্যাব্রিয়েল গনজালেজ ভিদেলা তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক হওয়ার অনুরোধ জানান নেরুদাকে। নেরুদাও তার পক্ষে প্রচার চালান। 

১৯৪৫ সালে খনি শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়নের প্রতিবাদ করায় চিলি সরকারের রোষাণলে পড়েছিলেন নেরুদা। ১৯৪৭ থেকে ৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গ্যাব্রিয়েল গনজালেজ ভিদেলা সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কমিউনিষ্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে। যার ফলে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়েন নেরুদা। চলে যান ইউরোপে। ১৯৫০ সালে ভারতে এসেছিলেন। ১৯৫২ সালে চিলিতে ফিরে যান। ১৯৫৩ সালে নেরুদা "স্তালিন শান্তি" পুরস্কার পান। ওই বছরই স্তালিন মারা যান। তাঁকে নিয়ে শোকগাঁথা রচনা করেন নেরুদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কিউবার ফুল গেনসিও বাতিস্তা ও পরে ফিদেল কাস্ত্রোকে নিয়ে কবিতা লেখেন। 

১৯৬৯ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টি নেরুদাকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য মনোনীত করে। পরে সম্মিলিত বামফ্রন্ট সালভাদোর আলেন্দেকে সর্বসম্মত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন নেরুদা। ১৯৭০ সালে আলেন্দে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়। আলেন্দে নেরুদাকে ফ্রান্সে চিলির রাষ্ট্রদূত করে পাঠান। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। 

১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সারাজীবন তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৩ সালে আগস্টে ক্যান্সার ধরা পড়লো পাবলো নেরুদার। একই সময়ে ঘটে গেলো চিলির সামরিক অভ্যুত্থান যা রাষ্ট্রপতি সালভাদোর আলেন্দের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ১৪ আগস্ট রাতে নেরুদার বাড়ি আক্রমণ করল রাষ্ট্রপতি 'পিনশো'র সৈন্যদল। নেরুদা কমান্ডারকে বললেন, "দেখো চারপাশ। এখানে মাত্র একটি বিপজ্জনক জিনিস- পাবে, তা হলো কবিতা"। 

১৮ই আগস্ট চিলির স্বাধীনতা দিবসে নেরুদাকে ভর্তি করা হল হাসপাতালে। মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত বিমানের ব্যবস্থা করলো নেরুদাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সরকার তাঁর হাসপাতালের ঘর থেকে, টিভি সংবাদপত্র, ফোন সব সরিয়ে নিলেন; কোনরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হলো না। অবশেষে ১৯৭৩ সালের ২৩-শে সেপ্টেম্বর সব শেষ। বাতাসে ভাসতে থাকলো কবিতার পঙক্তিগুলি - "জেনারেলের দল/ বিশ্বাস ঘাতকের দল/ তাকাও আমার মৃত বাড়ির দিকে / তাকাও ভেঙেচুরে যাওয়া স্পেনের দিকে/ যা শিয়ালের দল এমনকি শেয়াল ও খারিজ করতে পারে"। 

(তারিণী খুড়ো)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন