রাধানাথ শিকদার – উপেক্ষিত স্বদেশী বিজ্ঞানী

১৫ নম্বর পিক থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি এবং এভারেস্ট নামকরণ, যে মানুষটির হাত ধরে, তাঁর আজ প্রয়াণ দিবস; কিন্তু কজন জানি এই মানুষটির নাম? বা নাম জানলেও কজন ভালো করে চিনি এই মানুষটিকে? তাঁর প্রয়াণ দিবসে একটু ভাল করে জেনে নেওয়া যাক গণিতশাস্ত্র বিশারদ এই মানুষটিকে, যাঁর নাম রাধানাথ শিকদার

রাধানাথ শিকদার 

রাধানাথের জন্ম কলকাতা শহরের জোড়াসাঁকো এলাকার শিকদার পাড়ায়, এক গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারে, ১৮১৩ সালের অক্টোবর মাসে; সঠিক তারিখ জানা যায়না। বাবার নাম তিতুরাম শিকদার আর মায়ের নাম দেবকী শিকদার। জ্যেষ্ঠপুত্র রাধানাথকে পাঠশালায় গুরুমশাইয়ের কাছে পড়ানোর পরে ফিরিঙ্গি কমল বসুর স্কুলে ভর্তি করে দেন তিতুরাম। 

এর পর ১৮২৪ সালে রাধানাথ হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। রাধানাথ এবং দুই বছরের ছোটো ভাই শ্রীনাথ দুজনেই ছিলেন কৃতী ছাত্র হওয়ায় মাসিক ষোল টাকা করে বৃত্তি পেতেন। সে সময় তিনি যে টাকা বৃত্তি হিসেবে পেতেন তার বড় একটা অংশ দিয়ে বই কিনে ফেলতেন। কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি গণিত চর্চায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। সে সময়ের ভারতবর্ষের স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে তিনি ছিলেন একজন যিনি স্যার আইজ্যাক নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকাপড়েছিলেন এবং চর্চা করেছিলেন। হেলেনিক গণিতবিদ থেলিস, আর্কিমিডিস এবং ইরাটোথেনিসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি বক্রতলীয় ত্রিকোণমিতি অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁর অসাধারণ মেধার সাক্ষ্য স্বরূপ বেশ কয়েকটি ক্লাসে ডাবল প্রমোশন লাভ করেন। কলেজে পড়াকালীন সময়েই দুটি বৃত্তের উপর স্পর্শক রেখা (Tangent) অঙ্কন করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাঁর প্রবন্ধ Gleanings in Science (Vol. III, 1831) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। 

হিন্দু কলেজে সাত বছর দশ মাস পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। স্কুলজীবন থেকেই দিনলিপি লিখতেন রাধানাথ। সেখান থেকেই জানা যায় যে কলেজের সব শিক্ষকেরই স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন প্রবাদপ্রতিম প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজ়িও। ডিরোজিও ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ) অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিচর্চার অগ্রদূত। ডিরোজিও সাহেবের মতবাদে আকৃষ্ট হয়ে প্যারীচাঁদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার, হরচন্দ্র ঘোষ, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়দের সাথে সাথে রাধানাথও যুক্ত হয়েছিলেন সেই সময়কার প্রগতিশীল সংগঠন ইয়ং বেঙ্গল’-এ। 

দুর্দান্ত ইংরেজি পারতেন রাধানাথ। গ্রিক এবং লাতিন ভাষাতেও দক্ষতা ছিল তাঁর। সর্বস্তরে বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ইংরেজি ভাষায় রচিত বিভিন্ন বিজ্ঞান গ্রন্থ সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগ নেন। তখনো বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা শুরু হয়নি।

রাধানাথের পরিবারের ছিল বিপুল অর্থকষ্ট। কলেজে পড়াকালীন, ১৮ বছর বয়সেই সার্ভে অফিসে চাকরিতে ঢুকলেন রাধানাথ। কলেজ পাশ করলেন পরের বছর। যোগ দিলেন গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভে’-তে, পদের নাম কম্পিউটার’, বেতন মাসে ৩০ টাকা; সেই প্রথম কোনও ভারতীয় সুযোগ পেয়েছিলেন এই পদে। 

ভারতের তৎকালীন সার্ভেয়র জেনারেল জর্জ এভারেস্ট তখন গোলকীয় ত্রিকোণমিতি এবং বক্র জ্যামিতিতে দক্ষ একজন গণিতবিদ খুঁজছিলেন। কারণ এভারেস্টের মূল কাজ ছিল দক্ষিণ ভারত থেকে নেপাল পর্যন্ত যে দ্রাঘিমাংশীয় চাপ রয়েছে তার সঠিক পরিমাপ বের করা। হিন্দু কলেজে পড়ার সময় রাধানাথের অতি প্রিয় অংকের শিক্ষক টাইটলার সাহেবের সুপারিশে রাধানাথকে জর্জ এভারেস্ট লুফে নিলেন। ১৮৩২ সালের ১৫-ই অক্টোবর রাধানাথ কাজে নিযুক্ত হয়ে চলে গেলেন ভূপালের সেরোঞ্জ বেস লাইনে। সেখানে গিয়ে তিনি জিওডেটিক প্রসেস এর উপর বিশদ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি নিজের আগ্রহেই গণিতের বিভিন্ন বই অধ্যয়ন ও গণিত চর্চা করতে থাকেন। 

ব্যারোমিটারের সাথে যুক্ত থাকা ধাতব স্কেলের তাপজনিত প্রসারণ এবং ব্যবহৃত পারদের প্রসারণজনিত পরিমাপের ত্রুটি সার্ভের পরিমাপে বিচ্যুতি ঘটায়। এই বিচ্যুতি বাতিলের জন্য তিনি নিজের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ও অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করে শূন্য ডিগ্রিতে ব্যারোমিটারের পাঠ নির্ণয়ের সূত্র উদ্ভাবন করেন। এই সূত্র সম্বলিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধটি পরে এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল জার্নালে প্রকাশিত হয়। শুধু তা-ই নয়, সার্ভে চলাকালীন সময়ে রাধানাথের হাত ধরে প্রচলিত অনেক নিয়মকানুনের বদল ঘটে। এই ব্যাপারগুলোতে রাধানাথের পদার্থবিজ্ঞানেও অসাধারণ দক্ষতার ব্যাপারটি ফুটে ওঠে।

গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানে এরকম দক্ষ ব্যক্তিকে এভারেস্ট নিংড়ে নিতে চেয়েছিলেন। কারণ রাধানাথ শুধুমাত্র যে মেধাবী ও দক্ষতাসম্পন্ন গণিতবিদ ছিলেন তা-ই নয়, তিনি সুঠাম দেহ ও দারুণ শারীরিক বলের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন দারুণ সাহসী। সার্ভের কাজে যে প্রচুর শ্রম দরকার হতো, রাধানাথের পক্ষে তা করতে তেমন সমস্যা হতো না। রাধানাথের সাহায্য নিয়ে এভারেস্ট হায়দ্রাবাদের বিদর থেকে মুসৌরির ব্যানোগ পর্যন্ত প্রায় ৮৭০ মাইল দূরত্বের গ্রেট আর্কটি জরিপ করে ফেলেন।

সার্ভেয়র জেনারেল এভারেস্টে ছিলেন রাধানাথের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ১৮৩৮ সালে তিনি রাধানাথ সম্বন্ধে বলেছিলেন, ভারতে এ দেশের বা ইউরোপের এমন কেউ নেই যিনি রাধানাথের সঙ্গে তুলনীয়। এভারেস্ট মনে করতেন, গণিতে তাঁর সমকক্ষ বিশ্বেই খুব কম আছে। রাধানাথের উপর এভারেস্ট এতটাই নির্ভর করতেন যে বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য রাধানাথকে ছুটি দিতেও চাইতেন না, বরং এভারেস্ট চাইতেন তার বাবাই এসে যেন রাধানাথের সঙ্গে দেখা করেন। এ প্রসঙ্গে ১৮৪১ সালের ৩-রা জুলাই দেরাদুন থেকে রাধানাথের বাবা তিতুরামকে এভারেস্ট সাহেব একটি চিঠি লিখে তাঁকে দেরাদুন আসার অনুরোধ করে দেখে যেতে বলেন তাঁর পুত্রকে কতটা সম্মান করেন রাধানাথের উচ্চ আধিকারিকেরা। 

১৮৪৩ সালে এভারেস্ট চাকরি থেকে অবসর নিলে তাঁর স্থলে নিযুক্ত হন কর্ণেল এন্ড্রু স্কট ওয়াঘ (Col. Andrew Scott Waugh)তিনিও রাধানাথের কার্যক্রমে বেজায় খুশি। ১৮৫০ সালে রাধানাথ যখন কলকাতায় বদলির দরখাস্ত করলেন, তখন তিনি রাধানাথকে তাঁর দফতরে রেখে দেওয়ার জন্যে তিনি মাইনে আরো বাড়িয়ে দিলেন। 

এর পর অ্যান্ড্রু ওয়াঘ রাধানাথকে বললেন পূর্ব ভারতের হিমালয় পর্বতমালার বরফে ঢাকা চূড়াগুলির দিকে নজর দিতে। হিমালয়ের বরফে ঢাকা ৭৯ টি শৃঙ্গের অবস্থান নির্দিষ্ট করা গিয়েছিল, কিন্তু উচ্চতা মাপা যায়নি। রাধানাথ এবার এই কাজে হাত লাগালেন। তখনকার সময় নাম না দেওয়া হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গগুলো সূচিত হলো রোমান সংখ্যা দিয়ে। এরকম একটা শৃঙ্গ ছিল পিক ফিফটিন (Peak XV)দেড়শমাইল দূর থেকে ছয়টি বিভিন্ন অবস্থান থেকে থিওডোলাইটের (theodolite) সাহায্যে পরিমাপ সংগ্রহ করে গণিতের জটিল পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তিনি শৃঙ্গটির উচ্চতা নির্ণয় করে দেখান যে পিক ফিফটিনের উচ্চতা ২৯,০১৭ ফুট, যা পুরনো মাপ অনুযায়ী উচ্চতম পর্বতশৃংগ কাঞ্চনজঙ্ঘার চেয়েও বেশি উঁচু।

কিন্তু এর নাম কী হবে? এভারেস্ট যখন দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি স্থানীয় এলাকার মানুষের মুখের নাম অনুযায়ী পর্বতশৃংগের নাম প্রস্তাব করতেন। পিক ফিফটিন নেপাল আর তিব্বতের মাঝে অবস্থিত, দুই দেশে এর নাম দুই রকম। তখন কর্ণেল ওয়াঘ নিজে যাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর নাম অনুযায়ী রয়াল জিওগ্রাফিক সোসাইটিকে একটি চিঠি লিখে পিক ফিফটিনকে মাউন্ট এভারেস্টনামকরণ করার প্রস্তাব জানালেন। যে শৃঙ্গ আবিষ্কার বা পরিমাপে এভারেস্টের কোনো ভূমিকাই ছিল না তার নাম হয়ে গেল মাউন্ট এভারেস্ট। রাধানাথ রয়ে গেলেন উপেক্ষিত। 

মানুষটিকে কোনো কালেই সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ সরকার স্বীকৃতি দিতে চায়নি। জরিপের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বই ম্যানুয়াল অব সার্ভেয়িং ফর ইন্ডিয়াপ্রকাশিত হয় ১৮৫১ সালে। এর প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে ঠিকই রাধানাথের অবদানের কিয়দংশ ছিল। কিন্তু থ্যুলিয়ার কর্তৃক তৃতীয় সংস্করণ থেকে তাঁর অবদানটুকু রেখে স্বীকৃতি লোপাট করে দেওয়া হয়। 

জরিপবিদ রাধানাথ নিশ্চয়ই নমস্য, অগ্রগণ্য। কিন্তু তিনি যে ভারতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চারও পথিকৃৎ, তা ভুলে যাই কী করে?

জরিপের কাজ করতে গিয়েই এসেছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান, তাতে আগ্রহী হয়েছিলেন রাধানাথ। ১৮৫১ সালে ভারতে প্রথম জরিপ-সম্পর্কিত বই আ ম্যানুয়াল অব সার্ভেইং ফর ইন্ডিয়াপ্রকাশিত হয়। এর ‘Part-V’-টি লিখেছিলেন রাধানাথ, যার শিরোনাম প্র্যাকটিক্যাল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড ইটস অ্যাপ্লিকেশনস টু সার্ভেইং। সেখানেই জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে অব দ্য ফিক্সড স্টারসনামে একটি অত্যন্ত জরুরি নিবন্ধ লেখেন। সার্কামপোলার স্টারস’, অর্থাৎ যে তারাগুলো কখনও অস্ত যায় না, সার্ভেতে সেগুলিকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফর্মুলা নিরূপণ করেছিলেন এভারেস্ট। সেই দুটিকে নিখুঁত ভাবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পরীক্ষা করেন রাধানাথ এবং সার্ভেতেও যে তা কাজে লাগানো যেতে পারে, তা-ও জানিয়ে দেন। 

১৯২৯ সালে কলকাতার পার্ক ষ্ট্রীটে সার্ভে অফিস চত্তরেই জর্জ এভারেস্ট একটি পরিকাঠামো সহ আবহাওয়া অফিস খুলেছিলেন, এই অফিসের প্রধান ছিলেন ভি. এন. রীস (V. N. Rees)তাঁর অবসর গ্রহণের পরে ১৮৫২ সালে রাধানাথ সেই পদে নিযুক্ত হন। একই সঙ্গে তিনি চিফ কম্প্যুটার হিসাবে সার্ভের কাজ এবং সুপারিনটেনডেন্ট পদে আবহাওয়া অফিসের কাজ সামলাতেন। ভার নিয়েই রাধানাথ এই বিভাগটি আধুনিক ভাবে গড়ে তোলার কাজে মন দেন। ১৮৫২ সালেই তিনি দৈনিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রকাশ করার ব্যবস্থা করেন। ১৮৫৭ সাল থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগের আবহবিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞান কমিটিতে সদস্য ছিলেন। 

রাধানাথের গণিতের জ্ঞান ও অন্যান্য অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে জার্মানীর ব্যাভেরিয়ান শাখার বিখ্যাত ফিলোসফিক্যাস সোসাইটিতাঁকে তাদের সদস্য নির্বাচিত করে। সে সময়ের ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেছিলেন। ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। 

১৮৬২ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর তিনি জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ) কলেজে গণিতের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এই সময়েই তিনি তাঁর বন্ধু প্যারিচাঁদ মিত্রের সাথে মিলে মাসিক পত্রিকানামে একটি পত্রিকা বের করেন। 

হিন্দু ধর্মে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সরব ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। ডিরোজিওর ছাত্র হিসেবে রাধানাথ ছিলেন মুক্তবুদ্ধি ও প্রতিবাদী চেতনার অধিকারী। তিনি বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধী ছিলেন; অপরদিকে তিনি বিধবাবিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৮৪৩ সালে একজন ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট জনৈক ভারতীয় কুলিকে প্রহার করলে স্বাজাত্যবোধের প্রেরণায় রাধানাথ তার প্রতিবাদ করেন এবং এজন্য আদালত কর্তৃক ২০০ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।

রাধানাথ সর্বদা নিজের কাজেই ডুবে থাকতেন। অকৃতদার এই মানুষটির কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। চাকরী থেকে অবসর নিয়ে তিনি চন্দননগরের গোঁদলপাড়ায় গঙ্গার পারে বাড়ি তৈরি করে সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের তিনি খুব ভালবাসতেন। শেষ জীবনে আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব ও ছোটদের সঙ্গেই তাঁর দিন কাটত। ১৮৭০ সালের ১৭ই মে ৫৭ বছর বয়সে আধুনিক ভারতের প্রথম স্বদেশী বৈজ্ঞানিকের জীবনাবসান হয়।

অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়, তাঁর অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভা যদি কেবলমাত্র সার্ভের জট না খুলতে ব্যবহৃত হয়ে অন্য গবেষণার কাজে নিযুক্ত হতো, হয়তো বিশ্ব আরো পরিণত ও প্রজ্ঞাবান একজন গণিতবিদ পেতো। বস্তুতই রাধানাথের সমকক্ষ মেধা সমকালীন সারা বিশ্বে কেউ ছিল না। কিন্তু এরকম বহুধা প্রতিভাধর অসাধারণ এক মানুষ আজও উপেক্ষিত, আজও পাননি তিনি প্রাপ্য স্বীকৃতি।

(সংকলন তারিণী খুড়ো)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন