সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন অভ্যাস সেরে স্টুডিওতে ঢুকে পড়লেন ফ্লোরেন্স নগরীর বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, ভ্যারিচ্চিও। যিশুর শরীরে সাধু জন, পবিত্র জল ঢেলে দিচ্ছেন আর দেবদূতেরা যিশুর কাপড় ধরে আছেন, এমন একটা মাস্টারপিস ছবি আঁকার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন। জন আর যিশুর অংশের কাজ শেষ করে ফেলেছেন, বাকি আছে কেবল দেবদূত আর ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু আঁকাআঁকি, ওটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তরুণ এক শিক্ষানবিশ-কেই দিয়েছেন কাজটা করতে। এ ক’দিন ফ্লোরেন্সে ছিলেন না ভ্যারিচ্চিও। প্রায় শেষ হয়ে আসা মাস্টারপিসটার সামনে এসে দাঁড়াতেই তার চোখ চলে গেল দেবদূতের দিকে, ছবির নায়ক যিশুর দিকে নয়! দেবদূত থেকে চোখ সরছেই না তার। এ কী করে সম্ভব! এত নিখুঁত করেও আঁকা যায়? তার রীতিমত লজ্জা লাগতে লাগলো। এত বুড়ো হয়ে গেছেন তিনি, কিন্তু এত বছরের জীবনেও এত সুন্দর কিছু আঁকতে পারেননি।
চিৎকার করে স্টুডিওর সবাইকে জড়ো করে ফেললেন তিনি। এরপর তার ২৩ বছরের তরুণ শিক্ষানবিশ লিওনার্দোকেও ডাকলেন এবং বললেন, “তোমরা সবাই সাক্ষী থাকো, আমি আজ থেকে আর কোনো দিন হাতে তুলি নেব না। কোনো ছবিও আর আঁকব না, শপথ করছি। আমার জীবন সার্থক যে আমি লিওনার্দোর মতো কারো শিক্ষক হতে পেরেছি। অনেক বড় হও তুমি, বৎস!” সত্যিই ভ্যারিচ্চিও আর কোনো ছবি আঁকেননি কোনোদিন। এই সেই নিওনার্দো যার সম্বন্ধে লিখতে বসার থেকে আকাশের তারার সংখ্যা গোনা অনেক সহজ।
সম্পূর্ণ নাম লেওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি। জন্ম হয়েছিল ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল রাত্রি ত্রিপ্রহরে, ফ্লোরেন্স থেকে ২৫ মাইল দূরে, তুসকানের পাহাড়ি অঞ্চলের আর্নো নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ভিঞ্চি শহরে। তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের এক নোটারী, পিয়েরে দ্য ভিঞ্চির এবং এক গ্রাম্য মহিলা ক্যাটরিনার অবৈধ সন্তান। তাঁর মা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত দাসী ছিলেন।
জন্মের পর প্রথম ৫ বছর লিওনার্দো তাঁর মায়ের সঙ্গে কাটান। কিন্তু এরপর তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে চলে যান। আদর, সোহাগে বড় না হলেও, লিওর বাবা ১৫ বছর বয়সে তাকে ভ্যারিচ্চিওর কাছে কাজ শিখতে পাঠান, শিক্ষানবিশ হিসেবে। অন্যান্য ছেলের মতো তার কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না মোটেও। তবে ঘরে বসে পড়ালেখা শিখেছিলেন। বড় হয়ে অবশ্য বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন লিওনার্দো এবং পিতার মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েন।
ভ্যারিচ্চিওর কাছে শিক্ষানবিশ থাকাকালীন-ই তাঁর তুখোড় মেধার পরিচয় ফুটে ওঠে। এখানে কাজ করে লিওনার্দো হাতে কলমে প্রচুর কারিগরি জ্ঞানার্জন করার পাশাপাশি কারুকার্য, রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, ধাতু দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, প্রাস্টার কাস্টিং, চামড়া দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, গতিবিদ্যা এবং কাঠের কাজ শেখেন। তিনি আরও শিখেছিলেন দৃষ্টিনন্দন নকশাকরা, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি এবং মডেলিং।
১৪৭২ সালে ২০ বছর বয়সে লিওনার্দো “গিল্ড অব সেন্ট লুক” এর পরিচালক হবার য্যোগ্যতা অর্জন করেন। এটি চিকিৎসক এবং চিত্রকরদের একটি সংঘ। ২৪ বছর বয়সে লিওনার্দোকে কয়েকজন সঙ্গীর সাথে সমকামিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তবে কোনো সাক্ষী যোগাড় করা যায়নি তাঁর বিরুদ্ধে। মনে করা হয়, তাঁর ক্রমবর্ধমান খ্যাতির কারণে অনেকে তাঁর শত্রু হয়ে ওঠে, যারা তাঁর ধ্বংসসাধনে উঠে পড়ে লাগে।
২৬ বছর বয়সে লিওনার্দো নিজের স্টুডিও দিয়ে বসেন। ৩ বছর পর চার্চের কাছ থেকে প্রথম বড় কাজ পান তিনি- ‘Adoration of the Magi’; কিন্তু ততদিনে মিলানের ডিউকের কাছ থেকে এর চেয়েও বড় প্রস্তাব পান এবং ফ্লোরেন্স ত্যাগ করেন।
যা-ই হোক, লিওনার্দো মিলানে গিয়ে পেইন্টিং নয়, বরং উদ্ভাবকের কাজ করতে লাগলেন। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হলো মিলিটারি কাজকর্মের, বিশাল বিশাল নিত্যনতুন অস্ত্র বানানোর কাজের। মিলানে থাকা বছরগুলোতে তিনি দু-দুটো বিখ্যাত ছবি আঁকেন। একটি ছিল ‘Virgin of the Rocks’, আর অন্যটি ভুবনবিখ্যাত ‘The Last Supper’; এই লাস্ট সাপার ছবিটি নিয়ে একটি কাহিনী না বললেই নয়।
তড়িঘড়িতে ছবি এঁকে ফেলা লিওনার্দোর ধাতে ছিল না। মিলান-এ গিয়ে তিনি খান-দান, ঘুরে বেড়ান। একদিন যেখানকার ডিউক তঁকে বললেন, ব্যাপার কী — অনর্থক সময় নষ্ট করছেন কেন? জবাবে লিওনার্দো শান্ত গলায় বললেন, ছবিটি শুরু করার আগে ছবির প্রত্যেকটি মুখ স্পষ্টভাবে ভেবে নেওয়া দরকার। কিন্তু জুডাসের মতো একটা মুখ ভেবে ঠিক করা বড় কঠিন। প্রভূ যীশুর কাছ থেকে অত সাহায্য পাওয়া সত্ত্বেও যে লোক শেষ পর্যন্ত যীশুর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তার মুখটা ভাবতে পারা তো সহজ কথা নয়। তবে আপনার সময় বাঁচাবার জন্য ভাবছি, স্থানীয় প্রধান পুরোহিতের মুখটিকেই জুডাসের মুখ হিসাবে ব্যবহার করে ছবিটা শুরু করে ফেলি। এই শান্ত বিদ্রুপের দরুণ ডিউকের মুখ একেবারে চুন। বুঝলেন কাজ নেই ঘাঁটিয়ে।
আনুমানিক ১৫০০ সালে তিনি ফ্লোরেন্স ফিরে আসেন এবং সামরিক বিভাগে প্রকৌশলী পদে নিযুক্ত হোন। এই সময়েই তিনি তাঁর বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম 'মোনালিসা' অঙ্কন করেন। প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামে রাখা এই চিত্রকর্ম-টি দেখতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার দর্শক ভিড় করেন। মাপ জোকের দিক থেকে ছবিটি খুব বড় নয়। তিন ফুট উঁচু আর দু ফুট চার ইঞ্চি চওড়া। একটি মহিলার ছবি — তাঁর মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। এ হাসির মানে যে ছিল কী, তা ভাবতে ভাবতে সকলেই বিস্মিত হয়ে যায়। পটভূমিতে এক টুকরো প্রাকৃতিক দৃশ্য। কিন্তু তার পুরোটাই হল ছবির মহিলাটির মনের ভাবটিকে ফুটিয়ে তোলবার জন্যে। সমঝদাররা বলেন, এইখানেই লিওনার্দোর প্রতিভার আসল পরিচয়। মানুষের মন যে কী অপরূপ, কী বিচিত্র যে সম্বন্ধে আমরা চমকে সচেতন হই মোনালিসার ছবি দেখতে দেখতে। ছবির মহিলার নাম লিসা ঘেরারডিনি। তার স্বামী ফ্রাঞ্চেস্কো লিওকে দিয়ে তার এই ছবিটি আঁকিয়ে নেন। Mona ইতালীয় ভাষায় একটি ভদ্র সম্ভাষণ, Ma Donna (My Lady) এর শর্ট ফর্ম। আর লিসা তো তার নাম। সহজভাবে বলতে গেলে, ছবিটার নাম, ম্যাডাম লিসা। আবার এমন কথাও শোনা যায় যে, এটা নাকি তার মায়ের ছবি!
Pascal Cotte নামের একজন প্রকৌশলী তার উদ্ভাবিত শক্তিশালী একটি ক্যামেরা দিয়ে সর্বপ্রথম "মোনালিসা" চিত্রকর্মটি বিশ্লেষণ করেন। সাধারণ পেশাদারী ক্যামেরা যেখানে মেগাপিক্সেল ক্ষমতার হয়ে থাকে যা কিনা মৌলিক তিনটি রং নিয়ে কাজ করতে সক্ষম, Pascal Cotte -এর এই বিশেষ ক্যামেরা ২৪০ মেগাপিক্সেল ক্ষমতার যা কিনা ১৩-টি তরঙ্গদৈর্ঘ্য নিয়ে কাজ করতে সক্ষম, যার মাঝে ৪টি আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে। Pascal Cotte মোনালিসার ছবি বিশ্লেষণ করে দেখান, যে ছবিটি তৈরির সময় সাদা ক্যানভাসের উপরে বিভিন্ন স্তর তৈরির জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করেন লিওনার্দো। আর এতে তিনি এতটাই দক্ষ আর সফল ছিলেন যে পরবর্তিতে আর কেউই এই পদ্ধতিতে সমানভাবে সফল হয়নি। বিভিন্ন অনুপাতের মিশ্রনের তৈলাক্ত স্তর ব্যবহার করে বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা ভাবে রং মিশিয়ে তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন "মোনালিসা"-র । শুধু মোনালিসাই নয় আরও বেশ কয়েকটি চিত্রকর্মে লিওনার্দো এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করে গেছেন। শিল্পজগতে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির এই কাজগুলো আজও সমান ভাবে রহস্যময় এবং শ্রেষ্ঠ।
দুই বছর পর তিনি কাজ করলেন চেজারে বরজিয়ার মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ১৫০৬ সালে তার ডাক পড়ে আবার মিলানে। সেখানে ফ্রেঞ্চ গভর্নর তাকে ঘোড়ার পিঠে সেনাপতি বসে আছেন এমন ভাস্কর্য বানিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু সেই সময় ইতালি আক্রমণ করে বসে ফ্রান্স, তাই সেই প্রজেক্ট পরিত্যক্ত হয়। মিলানে থাকাকালীন তার মন ঘুরে যায় বিজ্ঞান নিয়ে কাজকর্মে। মানবদেহ নিয়েও কাজ শুরু করেন তিনি। ছোটবেলা থেকে পাখি নিয়ে তার একটা অবসেশন ছিল। মানুষ কীভাবে উড়তে পারে সেটা নিয়ে প্রোটোটাইপ যন্ত্র বানানোও শুরু করেন তিনি।
এরপর ফ্রান্সের রাজা ফ্রান্সিস দা ফার্স্ট লিওনার্দোকে তার রাজকীয় চিত্রকর ও স্থপতি বানিয়ে দিয়ে তাকে রাজসভায় আহবান করেন। তাকে Cloux-এ একটি বাগানবাড়িও উপহার দেন রাজা। ১৫১৯ সালের ২-রা মে ফ্রান্সের সেই বাগানবাড়িতেই ৬৭ বছর বয়সে মারা যান লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। ভিঞ্চির মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, সে নিয়ে অবশ্য নানা গল্পকথা আছে।
লিওনার্দোর অসংখ্য এক্সপেরিমেন্টস এবং সেগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফল লিখে রাখা নোটবুকগুলো থেকে গেছে অজ্ঞাত। তার আইডিয়া যাতে কেউ চুরি করতে না পারে সেজন্য লিওনার্দো মিরর ইমেজের মত অদ্ভুত উপায়ে তার নোটগুলোকে লিখতেন। ডান থেকে বামে লিখতেন তিনি এবং অক্ষরগুলো উল্টোদিকে ঘোরানো থাকতো। আয়নার সামনে নিলেই শুধুমাত্র প্রতিবিম্ব দেখে বোঝা যেতো আসলে কি লেখা আছে। এছাড়া সেগুলোর মধ্যেও তিনি তার নিজস্ব কোড ঢুকিয়ে দুর্বোধ্য করে দিতেন যাতে করে কেউ বুঝতে না পারে তিনি কি লিখেছেন। খেয়ালী রাজকুমারের মত এলোমেলো ভাবে নোটবুকের পৃষ্ঠায় ভিঞ্চি তার চিন্তাভাবনা লিখে রেখে গেছেন। তার নোট এবং ড্রয়িং থেকে দেখা যায় যে লিওনার্দো ব্যাপক বৈচিত্র্যময় বিষয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কিন্তু ছিলেন বাঁ-হাতি। আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ধর্ম, ইতিহাস আর সাহিত্য নিয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না।
দ্য ভিঞ্চি উসমানীয় সুলতান বায়েজীদ ২ এর জন্য একটি ২২০ মিটার লম্বা এক স্প্যান বিশিষ্ট ‘সেলফ সাপোর্টেড’ ব্রিজের নকশা করেন। মাত্র এক স্প্যান দিয়ে এত বড় ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব নয় মনে করে সুলতান ব্রিজ বানাতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে ২০০১ সালে নরওয়েতে দ্য ভিঞ্চির নকশা অনুযায়ী একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।
ভিঞ্চি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন। সুরের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিলো এবং বোতাম চেপে কেমন করে বিভিন্ন ধরনের সুর তৈরি করা যায়, সেগুলো নিয়ে তিনি বিভিন্ন গবেষণা করতেন। এক বাদ্যযন্ত্রের নকশাও করেন তিনি, যার নাম দিয়েছিলেন ভায়োলাঅর্গানিস্তা। তবে এটি তিনি তৈরি করে যেতে পারেননি।
ভিঞ্চি রোবটও আবিষ্কার করে গিয়েছিলেন! তবে আধুনিককালে আমরা রোবট বলতে যা বুঝি, লিওনার্দোর রোবট ঠিক তেমন ছিলো না। নিজে নিজে কাজ করতে সক্ষম এমন একটি যন্ত্র অবশ্য তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, যেটির নাম রেখেছিলেন যেটির নাম দেন অটোম্যাটন। কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই এটি হাঁটাচলা করতে পারতো। খুব বেশি কিছু করবার ক্ষমতা এটির ছিলো না, তবে সে যুগেই এই আবিষ্কার অনেককেই অবাক করেছে, এটা বলা বাহুল্য।
আকাশ নিয়ে যেমন ভিঞ্চির দারুন কৌতূহল ছিল, ঠিক তেমনি ছিল সমূদ্রের নিচের জগত নিয়েও। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ডাইভিং স্যুটেরও স্কেচ করে গিয়েছেন! সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, আধুনিক ডাইভিংস্যুটের সাথে এটির বেশ মিল রয়েছে।
তিনি মানবদেহের কঙ্কাল কীভাবে কাজ করে তা নিয়েও গবেষণা করেন। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক বিজ্ঞানে বায়োমেকানিক্স নামক শাখার উদ্ভব হয়।
তিনি যখন সান্তা মারিয়া হাসপাতালে গবেষণার সুযোগ পান তখন মৃত মানবদেহ ব্যবচ্ছেদ করেন ও মানবদেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন। দ্য ভিঞ্চি মানুষের আবেগের উৎস কোথায় তা নিয়েও গবেষণা করেন। তিনি মানব শারীরতত্ত্বের উপর ২৪০-টি বিস্তারিত ছবি অংকন করেন।
ভিঞ্চির ‘এরিয়ালস্ক্রু’, যা দেখতে অনেকটাই আজকের যুগের আধুনিক হেলিকপ্টারের মতো, তা তিনি পাখিদের নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা পরে তৈরি করেন, আধুনিক যুগে এটিকে অনেকে গ্লাইডার হিসেবেও চিনে থাকবেন। এছাড়া অর্নিথপটারের আবিষ্কারও উল্লেখযোগ্য, পাখিদের যেমন ডানা থাকে, এই অর্নিথপটারের মাঝেও দুটো ডানা ছিল। ডানা দুটি ঝাপটানোর মাধ্যমেই ভারসাম্য রক্ষা করে উড়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি লিখে রেখে গিয়েছিলেন তার নোটবুকে। তবে সে সময় ইঞ্জিন আবিষ্কার হয়নি বলে ভিঞ্চির বেশিরভাগ উড্ডয়ন-যান নির্ভর করত পেশীশক্তির ওপর।
জিনিয়াস বলতে আমরা বুঝি অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। কিন্তু লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে যদি শুধু জিনিয়াস বলা হয়, তাহলে কিছুই বলা হবে না। কেন না, তাঁর অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় শুধুমাত্র শিল্পের ক্ষেত্রে নয়, আরও নানা ক্ষেত্রে। গণিতশাস্ত্ৰ, ইঞ্জিনিয়ারিং, রসায়নশাস্ত্র ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়েই তাঁর কীর্তি স্মরণীয়। জীবনে যদি তিনি তুলি বুরুশ নাও ধরতেন, তাহলেও আজ আমরা তাঁকে একজন শ্রেষ্ঠ ভাস্কর বলে ঘোষণা করতাম। তিনি যদি ছেনিও জীবনে না ধরতেন, তাহলে আর আমরা তাকে একজন শ্রেষ্ট বৈজ্ঞানিক বলে চিনতাম — কিন্তু তিনি তুলিও ধরেছিলেন, ছেনিও ধরেছিলেন। করেছিলেন বিজ্ঞানের চর্চাও।
(তারিণী খুড়ো)

Soonder bislasion.
উত্তরমুছুন