মন ও মন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে যে মানুষটির নাম আসতে বাধ্য, সেই সিগমুন্ড ফ্রয়েডের আজ জন্মদিন। মানুষের ‘মন’ কে বিশ্লেষণ করে অনেক সত্য উদ্ধার করা এই মানুষটিকে জানাই অসীম শ্রদ্ধা। একইসাথে আসুন তাঁকে আর একটু ভালো করে জানার প্রয়াস করা যাক।
![]() |
| কর্মরত সিগমুন্ড ফ্রয়েড |
১৮৫৬ সালের ৬ মে অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্য ফ্রাবার্গের মোরাভিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জ্যাকব ফ্রয়েড, ছিলেন পশমের ব্যবসায়ী আর মা অমলিয়া নাথানসোহান, ছিলেন জ্যাকবের তৃতীয় স্ত্রী।
ফ্রয়েড পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকা সত্ত্বেও জ্যাকব কিন্তু সিগমুন্ডের জন্য যথেষ্ট উচ্চমানের শিক্ষার প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা করেছিলেন। ১৮৬৫ সালে নয় বছর বয়সে ফ্রয়েড সেখানকার নামী হাইস্কুল, লিওপল্ডস্টেডটের - কমুনাল – রিয়েলজিমনাসিয়াম –এ ভর্তি হন। যথেষ্ট ভালো ছাত্র ছিলেন ফ্রয়েড, এবং ১৮৭৩ সালে সম্মানের সাথে সেকেণ্ডারি স্কুলের শেষ পরীক্ষায় পাস করে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে প্রথমে আইন নিয়ে পড়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে ভর্তি হন।
১৮৭৬ সালে ট্রাইস্ট-এ ক্লজের প্রাণিবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রটিতে চার সপ্তাহ কাটান ফ্রয়েড, ইল-এর পুরুষ প্রজনন অঙ্গগুলির অসফল অনুসন্ধানে। ১৮৭৭ সালে ফ্রয়েড, আর্নস্ট ব্রুকের ফিজিওলজি পরীক্ষাগারে মানব এবং অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণীর মস্তিষ্কের সাথে ব্যাঙ সহ অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী যেমন ক্রেফিশ এবং ল্যাম্প্রেয়ের মধ্যেকার তুলনামূলক গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। এই গবেষণা কাজটি ১৮৭৯ সালে এক বছরের জন্য বাধাগ্রস্ত হয় কারণ সেই সময়ের দেশীয় শাসনের নিয়মানুযায়ী এক বছর সামরিক পরিষেবা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিল।
ইতিমধ্যে ফ্রয়েড ১৮৮১ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ব্রুকের শরীরতত্ত্ব গবেষণাগারে ডেমনস্ট্রেটর পদে যুক্ত হন। ১৮৮২ সালে সিগমুন্ড ফ্রয়েড ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিস্ট থিওডর মেয়ার্টের ক্লিনিকাল সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন। একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইন্টার্নিস্ট হারম্যান নথনজেলের অধীনেও তিনি সময় কাটিয়েছিলেন।
১৮৮২ সালে ফ্রয়েডের সাথে আলাপ হয়, মার্থা বার্নায়সের। অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ধনী পরিবারের মেয়ে মার্থা ফ্রয়েডকে বিয়ে করেন ১৮৮৬ সালে; তাঁদের ছয় সন্তান হয়।
১৮৮৬ সালে ফ্রয়েড ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানিক লেকচারার পদে নিযুক্ত হন; কিন্তু এই কাজের জন্য তিনি মাইনে পেতেন না। ১৮৮৬ সালে, ফ্রয়েড তাঁর হাসপাতাল পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং "স্নায়ুজনিত অসুবিধার বিশেষজ্ঞ" হিসেবে নিজস্ব ক্লিনিক খুলে বসেন।
এক সময়, বিখ্যাত চিকিৎসক তথা হিস্টিরিয়া রোগের বিশেষজ্ঞ ‘শারকো;-র শিষ্যত্ব নেন ফ্রয়েড। কোকেন প্রয়োগে স্পর্শানুভূতি দূর করে চোখের অস্ত্রোপচার সম্ভব একথা তিনিই প্রথম জানান। স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের তিনি চিকিৎসা করার মধ্যে দিয়েই তিনি মানুষের অবচেতন মন এবং সহজাত প্রবৃত্তি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন, যা ছিল সম্পূর্ণ নতুন। এর উপরে ভিত্তি করেই সাইকোঅ্যানালিসিস (মনোসমীক্ষা) নামে বিজ্ঞানের একটা নতুন শাখা গড়ে তোলেন।
১৮৮৯ সালে তিনি Free Association Method বা 'অবাধ ভাবানুষঙ্গ পদ্ধতি' আবিষ্কার করে মনঃসমীক্ষণের মূল ভিত্তি স্থাপন করেন। এছাড়া, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, স্বপ্নতত্ত্ব, সম্মোহন প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। আর এসবকিছুই বিংশ শতাব্দীর বিশ্ব সাহিত্য ও শিল্পকে প্রভাবিত করেছে। সাহিত্যে বিশেষ করে গল্প উপন্যাসে এল চেতনাপ্রবাহ রীতি।
সাইকো-এনালিসিস নিয়ে সিগমুন্ড ফ্রয়েড তাঁর কাজ শুরু করেন ১৮৯০ সালে। মানবদেহের ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞান যে কাজটা করেছে, মানুষের মনোজগত বুঝতে অনেকটা সেরকম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তিনি গড়ে তুলতে চাইছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর প্রথম প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার নাম ছিল, “ট্রাম ড্রইটাং”, বা দ্য ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস। অর্থাৎ মানুষ ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন দেখে, তার ব্যাখ্যা। ১৮৯৯ সালের ৪ঠা নভেম্বর ভিয়েনায় বইটি প্রকাশিত হলো। এই বইটি সাইকোএনালিসিস বা মনঃসমীক্ষণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে এখনো। এই বই পড়লেই জানা যাবে, ফ্রয়েড মানুষের মনকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করলেন- সচেতন, অবচেতন ও অচেতন মন।
এই বইয়েই তিনি আলোচনা করেন মানুষে স্বপ্নে যা দেখে তার পিছনে রয়েছে অবচেতন মনের প্রভাব। অবচেতন মন হল সচেতন মনের অন্তরালে থাকা একটা বড় জগৎ। এই অবচেতন মনের রাজত্ব চালায় অবদমিত যৌন আকাঙ্ক্ষা, ভয় ও হিংসা। অর্থাৎ মানুষ ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন দেখে, সেই অর্থহীন, উদ্ভট ও বীভৎস নানারকম স্বপ্নকে তিনি ব্যাখ্যা করলেন একান্ত নিজের উপলব্ধি দিয়ে। বইটি প্রকাশের পর তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি, প্রথম নয় বছরে বিক্রি হয় মাত্র ছ'শো কপি। সেই সময়ের সমাজ ফ্রয়েডের তত্ত্বকে মেনে নিতে পারেনি কেননা সেখানে কোন রকম বাছবিচার না রেখেই মানুষের যৌনতা সংক্রান্ত নানা মত ব্যক্ত করেন ফ্রয়েড।
১৯২৩ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই "The Ego and The Id"। তাঁর মতে মানুষের ব্যক্তিত্বের নির্মাণ ও মানসিক বিকাশের উপরে থাকে এই তিনটি প্রভাব। যথাক্রমে ইড (Id), ইগো (Ego) এবং সুপার-ইগো (Super ego)। ইড হল মানব মনের এমন অংশ যা ইন্দ্রিয়সুখ ও সহজাত প্রবৃত্তি চালিত যা সামাজিক নৈতিক-অনৈতিক অনুশাসনের পরোয়া করে না। সুপার-ইগো হল ইডের সম্পূর্ণ বিপরীত, সামাজিকভাবে স্বীকৃত নৈতিক মূল্যবোধ। যার দ্বারা বাস্তব উচিত-অনুচিত বোধ নিয়ন্ত্রিত হয়। ইগো হল "ইড" ও "সুপার-ইগো" দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আত্মচেতনা।
ফ্রয়েড প্রথম ধারনা দিলেন লিবিডো সম্বন্ধে; তিনি বললেন লিবিডো হ’ল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যৌন তাড়না। তার অন্যতম জনপ্রিয় দুটো তত্ত্ব হল ইডিপাস কমপ্লেক্স ও ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স।
ইডিপাস কমপ্লেক্স (Oedipus complex): এই মতবাদ অনুসারে, শিশুকালেই মানুষের যৌন চেতনার বিকাশ হয় যার দরুণ শিশুদের আচরণে তার প্রভাব পরে।
ইলেকট্রা কমপ্লেক্স: এই একই অকালজাত যৌন চেতনার প্রভাব যখন শিশু কন্যার ক্ষেত্রে দেখা যায় তাকে বলা হয় ইলেকট্রা কমপ্লেক্স। ফ্রয়েড এর নাম দিয়েছিলেন নেগেটিভ ইডিপাস কমপ্লেক্স। পরে ১৯১৩ সালে এই পরিভাষাটিকে বদলে ফ্রয়েডের অন্যতম এক অনুগামী কার্ল ইয়াং ইলেকট্রা কমপ্লেক্স বলে অভিহিত করেন।
১৯০০ থেকে ১৯৩০-এর দশক, এই সময়টায় ফ্রয়েড পরিণত হয়েছিলেন কিংবদন্তিতে। পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে ভিয়েনার ১৯ নম্বর বের্গেসি - যা কিনা ফ্রয়েডের বসতবাটি এবং ক্লিনিক - ঠিকানায় আসত রুগী, দেশ দুনিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে। ফ্রয়েড নিজেকে বিজ্ঞানীর চেয়ে একজন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ হিসেবে ভাবেন, যে অতিক্রম করতে চায় একের পর এক বাধা। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ভিয়েনাবাসী তাঁকে জেনেছেন এক জন সহানুভূতিশীল, সংস্কৃতিমনস্ক, বিত্তবান, তীক্ষ্ণ মেধার মানুষ বলে, নিজের সামাজিক প্রতিপত্তি বিষয়ে যিনি সজাগ।
হিটলারের উত্থানের সঙ্গে অবস্থা বদলাতে শুরু করল; দুঃসময় যে আসছে তার অশনি সঙ্কেত ছিল হিটলার-সমর্থক নাৎসিদের বামপন্থা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার সংক্রান্ত বইয়ের প্রতি আক্রোশ। কার্ল মার্ক্স, টমাস মান, কাফকা, আইনস্টাইনের বইয়ের সঙ্গে তাঁর বইও স্তূপাকার করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে শুনে ফ্রয়েড নাকি একটু শ্লেষের হাসি হেসেছিলেন। ভিয়েনা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শে কান দেননি ফ্রয়েড। বলেছিলেন, এ শহর ছেড়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব।
কিন্তু তাঁরও বিশ্বাসের ভিত নড়ে গেল ১৯৩৮ সালের ২২ মার্চ, যে দিন বাড়িতে গেস্টাপো এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে গেল তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান অ্যানা ফ্রয়েডকে। শান্ত ভাবে হুডখোলা গাড়িতে চেপে চলে গিয়েছিলেন সিগমুন্ড-কন্যা, যিনি শুধু পিতার ভালবাসার পাত্রীই নন, ছিলেন তাঁর প্রিয় শিষ্যা ও সচিব, তাঁর নিশ্চিন্ত নির্ভরতার মানুষও। ব্যক্তিগত ব্যাপারে তো বটেই, নিজের সমস্ত চিন্তাভাবনা ‘অ্যানা’-র সঙ্গে ভাগ করে নিতেন ফ্রয়েড। সেই অ্যানাকে গেস্টাপো তুলে নিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। অনেক রাতে অ্যানা ফিরে আসার পর স্বস্তির গভীর নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন বৃদ্ধ পিতা। সেই রাতের পর থেকেই ফ্রয়েড বুঝতে পারেন, ভিয়েনা আর নিরাপদ নয়। অন্য কোনওখানে ডেরা খুঁজতে হবে।
তাঁর গুণগ্রাহীদের মধ্যে সর্বপ্রধান আর্নেস্ট জোন্স-এর প্রচুর ব্রিটিশ হোমরাচোমরাদের সঙ্গে ওঠাবসার সূত্রে সরকারকে রাজি করিয়ে ফেললেন জোন্স। ১৯৩৮ সালের ৪ জুন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে উঠল ফ্রয়েড পরিবার। ট্রেন যখন ধীর গতিতে জার্মানির সীমানা পেরিয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করল, তখন নাকি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন ফ্রয়েড। রাইন নদীর জল ছোঁয়া আকাশের সীমারেখার দিকে তাকিয়ে মাতৃভাষা জার্মানে ফ্রয়েড উচ্চারণ করেছিলেন তিনটি শব্দ, ‘‘এখন আমরা স্বাধীন।’’
৬-ই জুন লন্ডনের ভিক্টোরিয়া স্টেশনে ভিড় জমিয়েছিল লন্ডনবাসী, প্রিয় সিগমুন্ড ফ্রয়েডকে দেখার জন্য। বস্তুত জীবনের শেষ একটি বছর লন্ডনে স্বস্তিতে আর আরামেই কেটেছিল ফ্রয়েডের। আর্নেস্ট জোন্স ফ্রয়েড ও তাঁর পরিবারের জন্য খুঁজে বার করেছিলেন ১৯২০ সালে তৈরি পুরনো দিনের স্থাপত্যরীতিতে গড়া বিশাল এক ম্যানসন। সেই বাড়ি কিনে অনেক অদলবদল করেছিলেন পেশায় স্থাপত্যবিদ আর্নেস্ট। এমনকি সিঁড়ি ভাঙতে ফ্রয়েডের কষ্ট হয় বলে বাড়িতে বসেছিল সুন্দর ছোট্ট লিফ্টও। লন্ডনের সাধারণ মানুষদের থেকে অকুণ্ঠ ভালবাসা পেয়ে তৃপ্ত বোধ করেছিলেন তিনি। ‘এই ব্রহ্মাণ্ডে আমার শেষ ঠিকানা’ বলে অভিহিত করেছিলেন বাড়িটিকে।
১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির দিকে, ফ্রয়েড তাঁর চোয়ালের ক্যান্সারের কারণে ব্যাপক যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন এবং চিকিৎসক তাঁর এই যন্ত্রণাকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। এর পরপরই তিনি তাঁর বন্ধু চিকিৎসক ও প্রাক্তন সহ-শরণার্থী ম্যাক্স স্কার-এর সঙ্গে স্বেচ্ছামৃত্যুর ব্যাপারে যোগাযোগ করেন। ম্যাক্স স্কার ও কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ করে অবশেষে ১৯৩৯ সালের ২৩-শে ডিসেম্বর অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বেচ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে, আত্মহত্যার প্ররোচনায় ধূমপানজনিত কারণে মুখের ক্যান্সারই এর জন্যে দায়ী।
"মনোবীক্ষণের জনক" হিসেবে পরিগণিত ফ্রয়েডের তত্ব জনমানসের ব্যাপক অংশে বিরাট প্রভাব ফেললেও তাঁর সব তত্ত্ব ও ধারণা সবার কাছে সমানভাবে গ্রাহ্য হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে কবি অডেন লিখেছিলেনঃ
for one who'd lived among enemies so long:
if often he was wrong and, at times, absurd,
to us he is no more a person
now but a whole climate of opinion
under whom we conduct our different lives।
(তারিণী খুড়ো)
