তাঁর সহযাত্রীদের প্রত্যেকেই যখন চুটিয়ে কাজ করছেন তখন তিনিই শুধু বেকার। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৭ তিন দশকে সিনেমা করেছেন মাত্র ৭টি অন্তরীক্ষ, গঙ্গা, অগ্নিশিখা, জীবনকাহিনী, আকাশছোঁয়া, পালঙ্ক আর নগপাশ। কিন্তু এক ‘গঙ্গা’ আর ‘পালঙ্ক’ ছাড়া তাঁর বেশির ভাগ ছবিই আজ জনতার বিস্মৃতির অতলে। তবু, বাংলা ছবির সেই নতুন সময়ে, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, তপন সিংহের পাশে আজও উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। তিনি রাজেন তরফদার। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে চেনার প্রয়াস হিসেবে এই লেখা।

রাজেন তরফদার
সে কেবল তাঁর পরিচালনার জন্যই নয় বোধহয়, তার চেয়ে বেশি তাঁর বিচিত্র বিষয় নিয়ে ছবি করার জন্য। সমরেশ বসুর কলম
থেকে মাছমারাদের জীবন, আত্মহত্যা-প্রবণ এক বৃদ্ধকে জীবনে
টেনে আনার গল্প কিংবা একটি পালঙ্ককে ঘিরে টানাপড়েন। অথচ বাংলা চলচ্চিত্রের
ইতিহাসে রাজেন তরফদার সে ভাবে আলোচিতও হননি।
অন্তরীক্ষ ছিল তার প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি। গঙ্গা ছিল তার দ্বিতীয় পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি। 'গঙ্গা'(১৯৬১) ও 'পালঙ্ক'(১৯৭৬) ছবিদুটির জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।
১৯১৭-র ৭-ই জুন তাঁর জন্ম অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহিতে। ১৯৪০-এ গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে কর্মজীবন শুরু করেন ডে ওয়াল্টার টমসন-এ। বিজ্ঞাপন-জগৎ থেকেই সিনেমার জগতে আসা, ১৯৫৭-য়। তখন থেকেই সর্বক্ষণের চলচ্চিত্রকার-জীবন শুরু। শুধু পরিচালনাই নয়, অভিনয়ও করেছেন মৃণাল সেনের ‘আকালের সন্ধানে’ ও ‘খণ্ডহর’, শ্যাম বেনেগালের ‘আরোহণ’ আর শেখর চট্টোপাধ্যায়ের ‘বসুন্ধরা’য়। তরুণ মজুমদারের 'গণদেবতা' ও 'সংসার সীমান্তে'-র চিত্রনাট্য তাঁরই লেখা। আর তাঁরই পরিচালনায় বিকাশ রায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনীত চলচ্চিত্র 'জীবন কাহিনী'।
২৩-শে নভেম্বর ১৯৮৭-তে মৃত্যু হয় এই অসামান্য চলচ্চিত্র প্রতিভার।
(সংকলন – তারিণী খুড়ো)