নিজের কলমের আঁচড়ে তিনি তুলে ধরেছিলেন বিংশ শতকের বাংলায় মেয়েদের সামাজিক দূরাবস্থার করুণ কাহিনী। নিজের জীবনের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই পেয়েছিলেন অমর কথা-কাহিনী সৃষ্টির বীজ। পেয়েছিলেন প্রতিবাদের মন্ত্র। তাই তো শত শত মেয়ের ‘আশাপূর্ণা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাই আজও, বাংলা সাহিত্যে নারীদের কথার অন্যতম মাধ্যম আশাপূর্ণা দেবী। গতকাল (১৩-ই জুলাই) ছিলো তাঁর প্রয়াণ দিবস। আসুন তাঁকে প্রণাম আর ভালবাসা জানানোর পাশাপাশি জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের এমন সব কাহিনী যা আপনাকে চিনতেও সাহায্য করবে ‘আশাপূর্ণা’ নামের এক অসামান্যা মানবীকে।
![]() |
| আশাপূর্ণা দেবী |
আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯
খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি (বাংলা ২৪ পৌষ,
১৩১৫) শুক্রবার সকালে উত্তর কলকাতায়
মাতুলালয়ে। বাবার নাম হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত এবং মায়ের নাম সরলাসুন্দরী
দেবী।হরেন্দ্রনাথ ছিলেন শিল্পী। তখনকার বিখ্যাত সি ল্যাজারাস কোম্পানির ডিজাইনারের
চাকরির পাশাপাশি ‘ভারতবর্ষ’,’মানসী ও মর্মবাণী’
পত্রিকায় ছবি আঁকতেন। বাড়ির প্রতিটি
আসবাব পালিশ করা থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে কাঠের ছোটখাটো সূক্ষ্ম জিনিস তৈরিতেও দক্ষ
ছিলেন হরেন্দ্রনাথ। অন্যদিকে স্ত্রীর ছিল বই পড়ার নেশা। নেশা না বলে তাঁকে
গ্রন্থকীট বলাই শ্রেয়। যৌথ সংসারে হাজার দায়;
ফাই-ফরমায়েশের ভিতর বই মুখে বসে থাকা
মেজোবউকে হরেন্দ্রনাথের মা ভালো চোখে দেখতেন না, তা বলাই বাহুল্য। স্ত্রী-র বই
পড়ার কারণে একান্নবর্তী পরিবার থেকে বেরিয়ে বাসা বদল করেছিলেন হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত।
রক্ষণশীলতার বিপরীতে অবস্থানকারী সরলাসুন্দরী দেবী রাজনৈতিক আদর্শে ছিলেন কট্টর
ব্রিটিশ-বিদ্বেষী স্বদেশী।
আশাপূর্ণা— নামটির পেছনেও
রয়েছে সেই সমাজের গল্প যা আজও নিদারুণ বাস্তব। বাবা হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত এবং মা
সরলাসুন্দরীর সংসারে তার আগে জন্ম নিয়েছিল আরও একটি কন্যাসন্তান। আর যাতে মেয়ে না
হয়, সেজন্য আশা করে ছিলেন ঠাকুরমা। পরবর্তীকালে পঞ্চম সন্তানটিও মেয়ে হলে
ঠাকুমার বক্তব্য, অনেক হয়েছে মেয়ে। আর নয়। মেয়ের আশা পূর্ণ হয়েছে। সেখান
থেকেই সদ্যোজাতের নাম ‘আশাপূর্ণা’।
আশাপূর্ণা দেবী মায়ের থেকেই
পেয়েছিলেন বই পড়ার অভ্যাস। বাড়ির উঁচু জানলায় ডানপিটে মেয়েকে বই হাতে দিয়ে বসিয়ে
রাখতেন মা। হাতে-পায়ে দস্যু ঠাকুরমার থেকে ‘ছিষ্টিছাড়া’ তকমা পাওয়া মেয়ে বই হাতে পেলেই নিমেষে শান্ত! নাওয়া-খাওয়াও
বেভুল তখন।
‘এখানের আকাশটায় কী নীল আর কত্ত বড়!’ বাসাবদলের পর এক দৌড়ে নতুন বাড়ির
ছাদে এসে বোনকে বলেছিলেন বালিকা আশাপূর্ণা। কিন্তু সিঁড়ির দরজায় তালা পড়ে গিয়েছিল
ছাদের কার্নিশ না থাকার কারণে। অগত্যা জানলায় উঁকি-ঝুঁকি দিয়েই উত্তর কলাকাতার
সকাল-দুপুর-বিকেলের জীবনস্রোত অনুভব করতেন মনে মনে।
আঁতুড় ঘরে ছোট ভাইকে জন্ম দিয়েছেন
আশাপূর্ণার মা। আর বালিকা আশাপূর্ণা সেই আঁতুড় ঘরের বাইরে বসে মাকে বই পড়ে
শোনাচ্ছেন; সন্তান জন্মানোর কারণে মা যে ছোট্ট ঘরে বন্দি রয়েছেন কিছুদিনের জন্য।
অথচ মায়ের কাছে বই পড়া ভাত-রুটির মতোই অপরিহার্য। এইটুকু মেয়ে ‘বড়দের বই’ পড়ছে জেনে
লোকজন আঁতকে উঠত যখন, তাঁর মায়ের একটিই উত্তর ছিল, -‘বই পড়ে কেউ খারাপ হয় না।’
দাদাদের সঙ্গে ক্যারাম, মার্বেল গুলি
খেলার পাশাপাশি বড় বড় কবিতা মুখস্থ করাও একরকম খেলায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল
আশাপূর্ণার। ‘গান্ধারীর আবেদন’, ‘কর্ণ কুন্তী সংবাদ’,
‘বিদায় অভিশাপ’ ছাড়াও
দ্বিজেন্দ্রলাল, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত গড়গড়িয়ে বলতে পারতেন। সব রকমের বই পড়ার
জন্য মায়ের কাছ থেকে নিষেধ নয়, প্রশ্রয়ই পেয়েছেন আশাপূর্ণা।
ছোট বোন সম্পূর্ণা ও নিজের নাম সই
করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিঠি লিখে ফেলেছিলেন আশাপূর্ণা। চিঠির বিষয়বস্তু? কিচ্ছু না, তাতে স্রেফ
লেখা ছিল, ‘নিজের হাতে নাম লিখে আমাদের একখানি চিঠি দেবেন।’ আসলে
রবীন্দ্রনাথের কবিতা পড়তে পড়তেই এই খেয়াল। অথচ চিঠি পাঠিয়েও স্বস্তি নেই, কবি কী উত্তর
দেবেন আদৌ! আবার বাড়িতে ছোট মেয়ের নামে চিঠি এলেও বকাঝকা খাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কিন্তু আশ্চর্য, রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিয়েছিলেন দুই বোনের নাম লিখে একটি
চিঠি। আশাপূর্ণা সেই চিঠি নিয়ে ছুটলেন রান্নাঘরে মায়ের কাছে; উনুনের ধোঁয়ার
ভিতরেই মা দেখলেন চিঠির সেই হস্তাক্ষর। আর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোরা পারলি।
আমি শুধু স্বপ্নই দেখেছি।’
তিনি কোনোদিন স্কুলে পড়েননি।
হ্যাঁ এটাই সত্যি। কারণ বাড়ির বারণ ছিল। তার মা সরলাসুন্দরী দেবী কিন্তু স্কুলে
পড়া বিদুষী ছিলেন। মা খুব চেষ্টা করেছিলেন তার মেয়েরা স্কুলে পড়ুক। কিন্তু তার
শাশুড়ি নিস্তারিনী দেবীর অনমনীয় জেদের কাছে হার মেনে যান। তবে এই প্রতিকূল
পরিবেশেও মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে দাদাদের পড়া শুনে শুনে শিখে গিয়েছিলেন পড়তে।
বর্ণপরিচয় আয়ত্ত করেছিলেন বিপরীত দিক থেকে।পরবর্তী কালে ‘দেহে ও মনে
অসম্ভব শক্তিমতী’ তার সেই ঠাকুরমার ছবি আঁকতে গিয়ে লিখেছেন, “...ইস্কুলে
পড়লেই যে মেয়েরা... বাচাল হয়ে উঠবে,
এ তথ্য আর কেউ না জানুক আমাদের ঠাকুমা
ভালোভাবেই জানতেন, এবং তার মাতৃভক্ত পুত্রদের পক্ষে ওই জানার বিরুদ্ধে কিছু
করার শক্তি ছিল না”।
পড়া পড়া খেলার ভিতর দিয়েই তেরো
বছর বয়সে ‘শিশুসাথী’ পত্রিকায় কবিতা পাঠিয়েছিলেন আশাপূর্ণা, কবিতার নাম — ‘বাইরের ডাক’। আবারও এক
আশ্চর্য ঘটনা! সেই কবিতা ছাপা তো হলই,
উপরন্তু ওই পত্রিকায় আবারও লেখার
আমন্ত্রণ এসে গেল সম্পাদকের তরফ থেকে। তবে এবার কবিতা নয়, গল্পের আবদার।
এরপর ‘শিশুসাথী’ পত্রিকাতেই প্রকাশিত হল কিশোরী আশাপূর্ণার প্রথম গল্প — ‘পাশাপাশি’।
১৫ বছর বয়স, কৃষ্ণনগরের
কালী দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমে ওঁর খুব মন ভেঙে যায়।
কলকাতাই যে প্রাণ! এ দিকে শ্বশুড়বাড়ি কৃষ্ণনগর। ভেবেছিলেন, বই
পড়া-লেখালিখির বুঝি ইতি টানতে হবে। গিয়ে দেখলেন, বাড়িতে বই বলতে কেবল পঞ্জিকা! উনি
বলতেন, ‘‘মনের দুঃখে আমি সেই পঞ্জিকাখানি উল্টে-পাল্টে দেখতাম!’’স্ত্রীর আগ্রহ
দেখে কলকাতা থেকে বই, পত্র-পত্রিকা কিনে-কিনে নিয়ে যেতেন। এক সময় সংসার উঠিয়ে
নিয়ে তিনি কলকাতায় চলে এলেন। প্রথমে রমেশ মিত্র রোডে ভাঁড়ায় উঠলেন। পরে ঠিকানা
বদলে গেল বেলতলা রোডে। আর সে বাড়িতেই দীর্ঘ ৪০ বছর ছিলেন।
স্বামীর উৎসাহেই সাহিত্য জগতে
প্রবেশ করেন তিনি। দুই ছেলে প্রশান্ত-সুশান্ত আর এক মেয়েকে নিয়ে ওঁদের তখন ভরা
সংসার। তবুও লেখা থামেনি। সারা দিন সংসারের কাজ করতেন। রাত্তিরে অন্তঃপুরের
মেয়েদের কথা, নারীমুক্তির কথা লিখে যেতেন।রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ভিজে হাতখানি আঁচলে
মুছতে-মুছতে লিখতে যেতেন। লেখার ভঙ্গিটিও ঠিক ছবির মতো। আধশোয়া। উপুড় হয়ে ছোট্ট
একটা কাঠের ডেস্কে নিজের প্যাডে লিখে যেতেন। কতবার এরকম হয়েছে যে, লিখতে লিখতে
ভোর।লিখেওছেন, ‘‘লেখা শেষ করে যখন শুতে যাচ্ছি, রাস্তায় জল
দিচ্ছে।’’ নাগাড়ে লিখেছেন। হয়তো কেউ এসেছেন,
তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন লেখা থামিয়ে। চলে
যেতেই ফের লিখতে বসলেন। কখনও পড়তেন। বঙ্কিম-শরৎ-রবীন্দ্রনাথের লেখা। বলতেন, ‘‘ওঁদের প্রণাম
করে লেখা শুরু করি।’’
উনি তো সচরাচর কোনও সভা-সমিতিতে
যেতেন না। সে বার ‘কলিকাতা সাহিত্যিকা’-র অধিবেশনে গিয়েছেন নতুন গল্প পড়তে। পড়তে উঠে ব্যাগ খুলে
হঠাৎ বললেন, ‘‘ওই যাঃ! আমার গল্পটা ঠিক রাস্তায় পড়ে গেছে! আজই লিখেছি। ব্যাগে ভরেওছি!
কোথায় যে পড়ে গেল! এখন... কী পড়ি!’’
মায়ের কথা শুনে সবাই ভাবছেন, ‘আশাপূর্ণা
দেবী পথে গল্প হারিয়ে ফেললেন। তা হলে কি ওঁর গল্পপাঠ শোনা যাবে না!’ সংস্থার
সভাপতি স্বপনবুড়ো মানে অখিল নিয়োগী বললেন,
‘‘আজই যখন গল্পটা লিখেছেন, তখন গরম-গরম
মনে আছে নিশ্চয়। মুখে মুখেই বলে দিন না।’’শ্রোতাদের নিরাশ করেননি। সে দিন স্মৃতি থেকে মুখে মুখেই
পুরো গল্পটা শুনিয়েছিলেন!
নরেন্দ্র দেব-এর উৎসাহে আশাপূর্ণা
দেবীর বাইরে বের হওয়া। সাহিত্যসভায়, অনুষ্ঠানে তিনি নিয়ে যেতেন বোনের মতো। উৎসাহ দিতেন। বলতেন, ‘‘তুমি ঘরবন্দি
হয়ে থাকবে কেন? বাইরের জগতেও পরিচয় দরকার।’’
শুনে আশাপূর্ণা দেবী চুপিচুপি হাসতেন।
আশাপূর্ণা দেবীর কথা আসলে অবশ্যই
সামনে আসে তাঁর ট্রিলজি’র কথা। ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’,
‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুলকথা’। এই তিনটে
উপন্যাসে কি নিজেই নিজেকে, নিজের পরিবারকে লিখেছেন আশাপূর্ণা? ‘বকুলকথা’-এর একটি
জায়গায় তিনি লিখছেন— “মা, মা গো! তোমার পুড়ে যাওয়া হারিয়ে যাওয়া লেখা, না-লেখা সব
কথা আমি খুঁজে বার করবো। সব কথা আমি নতুন করে লিখবো। দিনের আলোর পৃথিবীকে জানিয়ে
যাবো অন্ধকারের বোবা যন্ত্রণার ইতিহাস…"।এই কথা কি আশাপূর্ণা দেবীর নিজেরও কথা নয়? ছোট থেকেই
দেখেছেন অনুশাসন। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার দেওয়া হত না, নিজেও পাননি।
বইয়ের নেশা থাকলেও মা সরলাসুন্দরীকে লুকিয়ে সেই শখ মেটাতে হয়েছে। সেই কাহিনিই কি
লিখে গেছেন এই তিনটি কালজয়ী উপন্যাসে! বারবার জীবনের ছবিই তুলে ধরেছেন তিনি। যা
দেখেছেন সেটাই বলেছেন। নিজেই বলেছেন,
‘উচিত বলার আমি কে?’
তবে সবসময় মেয়েদের স্বপক্ষেও
বলেননি তিনি। সোহাগের পাশাপাশি শাসনও করেছেন। মেয়েদের ‘আসক্তি’-কে তিরস্কার
করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও একইরকম ব্যক্তিত্বময়ী ছিলেন আশাপূর্ণা। ঠিক যেমন
পাঠকরা দেখতে পেয়েছিলেন ‘সুবর্ণলতা’র মধ্যে, ঠিক তেমনটিই।
উনি চাইতেন রাস্তার ধারের বাড়িতে
থাকতে। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ওঁর কাছে একদিন জানতে চেয়েছিলেন, ‘”গোলপার্ক থেকে
গড়িয়ায় কেন?” উত্তরে বলেছিলেন, “আমার বরাবরের
ইচ্ছে বড় রাস্তার উপরে থাকব। লোকজন দেখব। গাড়ি ঘোড়া দেখব।”
১৯৭৫ সালে ওঁর জ্ঞানপীঠ পুরস্কার
প্রাপ্তির সেই গল্প তো অনেকেরই জানা। ‘দেশ’-এ লিখেছিলেন নবনীতা। সে বার বাংলাভাষার কমিটিতে ছিলেন
অধ্যাপক প্রতুল গুপ্ত এবং অধ্যাপক অমলেন্দু বসু আর নবনীতা। নবনীতা সেখানে ‘প্রথম
প্রতিশ্রুতি’র কথা বললে, তাঁরা দু’জনেই অবাক হয়ে বলেছিলেন, ‘‘অনেক লিখলে বা মুখরুচিকর জনপ্রিয়
লিখলেই মহৎ সাহিত্য হয় না।’’ শেষে নবনীতা ওঁদের পড়তে দিয়েছিলেন উপন্যাসটা। পরে ওঁরা
সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন।
সারা জীবনে পুরস্কার তো কম পাননি।
কিন্তু কোনও দিন নিজের সাদামাঠা জীবন থেকে সরে যাননি। ওঁকে ডি লিট দিয়েছে চারটি
বিশ্ববিদ্যালয়। পেয়েছেন পদ্মশ্রী, জ্ঞানপীঠ, দেশিকোত্তম... আরও অজস্র সম্মান, পুরস্কার।
কিন্তু কখনও নিজেকে ‘সেলিব্রিটি’ মনে করেননি। খুব সাধারণ পোশাকেই অভ্যস্ত ছিলেন। পোশাকের
মধ্যে সাদা শাড়ি পরতে পছন্দ করতেন। বাইরে গেলে কুঁচি দিয়ে পড়তেন। নইলে বাড়িতে
আটপৌরে করেই পড়তেন। অথচ, খুব পরিচ্ছন্ন থাকতেন। গুছিয়ে রাখতেন ঘরদোর।
নিজের গল্প নিয়ে এত ছায়াছবি হয়েছে, কিন্তু একা
ছবি দেখতে যেতেন না। তবে সিনেমার জগতের বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় ছিল আশাপূর্ণা
দেবীর। যেমন কাননদেবী। টেলিফোনে প্রায়ই কথা হত দু’জনের। খুব যোগাযোগ ছিল হেমন্ত
মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। বাড়িতে এসে রবীন্দ্রনাথের গানও শুনিয়েছিলেন একবার। হেমন্ত
যখন ‘অনিন্দিতা’ ছবি করলেন, চিত্রস্বত্ব নিতে গিয়েছিলেন। শ্যুটিং দেখতে গিয়েছিলেন।
ছবির মহরতেও গিয়েছিলেন। বাড়িতে উত্তমকুমার গিয়েছিলেন।
হঠাৎ করেই শরীরটা ভেঙে পড়ল। বোঝা
যেত, লিখতে কষ্ট হচ্ছে। তবু লিখতেন। চলে যাওয়ার দু’তিন মাস আগেও
লিখেছেন। কোলের উপর প্যাড নিয়ে লেখার চেষ্টা করতেন। লাইনগুলো ছেড়ে ছেড়ে যেত। অক্ষর
কেঁপে যেত। শেষ করলেন একটা গল্প ওইভাবেই। শেষের দিকে শুয়েই থাকতেন।
১৯৯৫ সালের যে দিন চলে গেলেন, সেটা ১৩ জুলাই। গহন রাতে ঘুমের মধ্যেই সব শেষ।
(তারিণী খুড়ো)
