১৯২৫ সাল সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার ঘোষণা হ’ল। প্রাপক পুরষ্কারের অর্থ গ্রহণ করতে রাজী নন। তিনি বলেন, আমি ডিনামাইট তৈরির জন্য আলফ্রেড নোবেলকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু নোবেল পুরষ্কারের প্রবর্তনকারীকে ক্ষমা করতে পারি না, কারণ একমাত্র মানুষরুপী শয়তানই এমন পুরষ্কার প্রবর্তন করতে পারে। এই কথাটা যিনি বলেছিলেন, তিনি বিশ্ববন্দিত নোবেল ও অস্কার বিজেতা নাট্যকার "জর্জ বার্নার্ড শ"।
![]() |
| বিশ্বমানব জর্জ বার্নার্ড শ |
তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার সাথেসাথেই পরিচিত হওয়া যাক এই অনন্য মানুষটির জীবনের সাথে।
'জর্জ বার্নার্ড শ' আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের আপার সাইন স্ট্রিটে এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছিলেন ২৬-শে জুলাই ১৮৫৬। 'জর্জ কার শ' এবং 'লুসিন্ডা এলিজাবেথ শ'-এর পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ও একমাত্র পুত্র "জর্জ বার্নার্ড শ"।
বাবা ছিলেন হাসিখুশি প্রাণখোলা মানুষ। শ-এর মা ছিলেন এক অসাধারণ গুণবতী মহিলা। শ-এর জীবনে মায়ের ভূমিকা বিশাল। তাঁর বড় হয়ে ওঠার পেছনে মায়ের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি নিজে ছোটখাট অনুষ্ঠানে গান করতেন, পিয়ানো বাজাতেন। মায়ের সম্বন্ধে শ বলেছেন, “আমার মা ছিলেন সুন্দরের প্রতিমূর্তি। অনেক নামকরা শিল্পীর গান শুনেছি। কিন্তু মায়ের গানের মতো এমন পবিত্র সৌন্দর্য কারো গানে খুঁজে পাইনি। তাঁর গান শুনলে মনে হত গীর্জার প্রার্থনা সংগীত। এক স্বর্গীয় সুষমা ফুটে উঠত তাতে।”
দশ বছর বয়েসে সানিকে (শ-এর ছেলেবেলার নাম ছিল সানি) ভর্তি করে দেওয়া হল ডাবলিনের কনেকসানাল স্কুলে। এর আগে বাড়িতেই পড়াশুনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। একজন শিক্ষয়িত্রীর কাছে পড়তেন সাহিত্য, ইতিহাস, অঙ্ক আর আমার কাছে শিখতেন পিয়ানো। নতুন স্কুলে কিছুদিন যাতায়াত করার পরেই হাঁপিয়ে উঠলেন সানি। স্কুলের আবহাওয়া, বাঁধাধরা পড়াশুনা, পরীক্ষা দেওয়ার তাঁর ভাল লাগত না। মাত্র ছ বছর বয়েসেই শিশু পাঠ্য বই –এর সীমানা অতিক্রম করে জন স্টুয়ার্ট মিলের আত্মজীবনী পড়ে ফেলেছিলেন। পাঠ্য বইয়ের জগৎ তাঁকে বেশি আকর্ষণ করত। তবে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল সংগীত। সংগীতের সুরের মধ্যে তিনি যেন নিজেকে খুঁজে পেতেন। ১৮৬৫-৭১ এর মধ্যে 'শ' চারটি স্কুলে পড়াশোনা করলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি সেই বয়সেই বিরূপ হয়ে ওঠেন। ডাবলিন ইংলিশ সায়েন্টিফিক এ্যন্ড কমার্শিয়াল ডে স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার সমাপ্তি ঘটে। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর লেখায়, স্কুলকে কারগার এবং স্কুল শিক্ষককে কারাপরিদর্শক বলে অবিহিত করেছেন।
পরবর্তী সময়ে এ প্রসঙ্গে এক ব্রিটিশ সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলে চাকরী পাবেন কোথায়?" উত্তরে 'শ' বলেন," কেরানী যারা হতে চায় তারা পড়বে, আমি চাই জীবনকে আবিষ্কার করতে"।
স্কুলে পড়াশুনা না হওয়ায় শ-বাড়িতেই পড়াশুনা করতে আরম্ভ করলেন। সারা দিন শুধু পড়া আর পড়া। এই একাগ্রতা, পরিশ্রম আর নিষ্ঠার সাথে মিশেছিল অনুরাগ আর মেধা। কিশোর বয়েসেই তিনি সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শনের বহু বই পড়ে ফেলার পাশপাশি শেকসপীয়রের নাটকের প্রতি বিশেষভাবে আকর্ষিত হয়ে পড়েন, তখনই তিনি মনে মনে কল্পনা করতেন একদিন তিনিও শেকসপীয়রের মত মস্ত বড় নাট্যকার হবেন।
কিন্তু আচমকাই বাবার ব্যবসায় নেমে এল মন্দা, আয় বন্ধ হয়ে গেল। এক বন্ধুর সাথে ভাগে ময়দার কারবার ছিল তাঁর। বন্ধুর প্রতারণার কারবার নষ্ট হয়ে গেল। অনেক টাকা ক্ষতি হল। এরপর থেকেই শুরু হল আর্থিক দুরবস্থা। নিদারুণ অর্থকষ্ট প্রকট হয়ে উঠল। বাধ্য হয়ে শ-কে চাকরি নিতে হল। শ-এর বয়স তখন পনেরো। এক জমির দালালীর অফিসে মাসে ১৮ শিলিং মাইনেতে চাকরি পেলেন। শ এর যখন ১৬ বছর বয়স তখন তাঁর মা তাঁর দুই বোনকে নিয়ে আলাদা থাকতেন এবং শ তাঁর বাবার সঙ্গেই থাকতেন।
অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলত তাঁর লেখালেখি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তাঁর কোন লেখাই ছাপা হত না। মাঝে মাঝে রেগে গিয়ে সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠাতেন। তাতে বেশিরভাগিই থাকত অন্যের লেখার সমালোচনা। অবশেষে একদিন তাঁর একটি চিঠি ছাপা হল। চিঠির বিষয় ছিল ‘নিরীশ্বরবাদ’। সেটাই তাঁর জীবনের প্রথম মুদ্রিত লেখা। তখন শ-এর বয়েস পনেরো।
শ ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন অসাধারণ পরিশ্রমী। অল্পদিনের মধ্যেই অফিসের কাজে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে ক্যাশিয়ারের পদ পেয়ে গেলেন। পাঁচ বছর অফিসে কাজ করলেন। কিন্তু ক্রমশই তাঁর মনে হচ্ছিল এই অফিসের চার-দেয়ালের মধ্যে তিনি যেন ফুরিয়ে যাচ্ছেন। হারিয়ে যাচ্ছে তাঁর বড় হবার স্বপ্ন। জীবনে যদি কিছু করতে হয় তাঁকে যেতে হবে লন্ডন শহরে। যেখানে জীবন কাটিয়েছেন তাঁর প্রিয় নাট্যকার শেকসপীয়ার।
চাকরিতে ইস্তফা দিলেন। বাবা আঘাত পেলেন। অত কিছু ভাববার মত মনের অবস্থা নেই শ-এর। একদিন সামান্য কিছু জিনিস আর সম্বল করে বেরিয়ে পড়লেন লন্ডনের পথে। ১৮৭৬-এর এপ্রিলে পৌছলেন লন্ডন শহরে। শুরুতে শ লন্ডনে ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিকী দ্য হর্নেট-এ লেখক-কর্মচারী হিসেবে সঙ্গীতের কলাম লেখার কাজ জোগাড় করেন। এসময়ে শ মহড়ার পিয়ানোবাদক ও অনিয়মিত গায়ক হিসেবেও কাজ করেন। ইতোমধ্যে শ দাপ্তরিক কাজের জন্য আবেদন করতে শুরু করেন। অন্তর্বর্তী সময়ে তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের (ব্রিটিশ লাইব্রেরির অগ্রদূত) পাঠকক্ষের পাঠক পাস জোগাড় করেন এবং সপ্তাহান্তে সেখানে পড়ালেখা করে সময় ব্যয় করতেন।
১৮৭৯-৮০ সালে নব্য প্রতিষ্ঠিত এডিসন টেলিফোন কোম্পানিতে যোগদান করেন, এবং দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন। তবে এডিসন কোম্পানি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বেল টেলিফোন কোম্পানির সাথে একীভূত হলে শ নতুন কোম্পানিতে যোগ না দিয়ে লেখক হিসেবে পূর্ণ কর্মজীবন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।
পরবর্তী চার বছরে শ লেখনী থেকে নামমাত্র উপার্জন করেন এবং তার মায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জীবিকা নির্বাহ করেন। ১৮৮১ সালে আর্থিক কারণে এবং নীতিগত কারণে তিনি নিরামিষাশী হয়ে যান। গুটিবসন্তের কারণে মুখে থেকে যাওয়া দাগ লুকানোর জন্য তিনি দাঁড়ি রাখা শুরু করেন। ১৮৯৬ খ্রীস্টাব্দে শ বিয়ে করেন শার্লট টাউনশেডকে। তাঁরা লরেন্সের আয়ট সেন্ট এ থাকতেন যেটি এখন 'শ'স কর্ণার' নামে পরিচিত।
শুরুর দিকে শ একজন সাহিত্য সমালোচক হিসেবে কাজ করেছিলেন 'প্যল ম্যল গ্যাজেট'-এ। তিনি 'কর্নো ডি ব্যাসেটো' ছদ্মনামে লিখতেন। ১৮৯৫ - ১৮৯৮ সাল অবধি তিনি তার বন্ধু ফ্রাঙ্ক হারিসের পত্রিকা 'স্যাটারডে রিভিউ'-তে নাট্য সমালোচক হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে তিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের কৃত্রিমতা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে কটাক্ষ করতেন। এই পত্রিকায় ১৮৯১ সালে হেনরিক ইবসেনের কাজ সম্পর্কিত তার রচনা 'কুইন্টেসেন্স অফ ইবসেনেজম' সাহিত্যজগতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি শেক্সপীয়ার সমালোচকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
সঙ্গীত সমালোচক হিসেবে জর্জ বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। জার্মান সুরকার রিচার্ড ওয়াগনারের কাজ নিয়ে প্রশংসামূলক একটি প্রবন্ধও রচনা করেন, 'দ্য পারফেক্ট ওয়াগনারাইট'। আরেক বিখ্যাত জার্মান সুরকার ব্রম্ভস্ এর কাজ নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন। শ এর সঙ্গীত সমালোচনা সংগ্রহ কে 'শ'স মিউজিক' নামকরণ করা হয়।
১৮৮২ সালে লিখেছিলেন 'ক্যাসেলস বায়রান'স প্রফেশন', যা ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৮৩ সালে লেখা তাঁর পরের উপন্যাস 'অ্যান আনসোশ্যাল সোশালিস্ট' প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালে। তারপর আরো দুটি উপন্যাস 'লাভ অ্যামাং দ্য আর্টিস্ট' এবং 'দ্য ইররশ্যানাল নট' প্রকাশিত হয়। সবশেষে ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'ইমম্যাচুরিটি' (১৮৭৯)।
ছোটগল্পের সংকলন 'দ্য ব্ল্যাক গার্ল ইন সার্চ অফ গড এণ্ড সাম লেজার টেলস' প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। 'দ্য মিরাকুলাস রিভেঞ্জ' ঐ গল্প-সংকলনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
জর্জ বার্নার্ড শ সর্বাপেক্ষা খ্যাতি অর্জন করেন একজন নাট্যকার হিসেবে। তাঁর নাটকগুলি বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসে ভরা। তাঁর নাটকগুলি সেই সময়ে লন্ডনের তুলনায় জার্মানি এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যদিও পরবর্তীকালে লন্ডনের থিয়েটারে সেগুলি বিশেষ খ্যাতি পায়। এমনকি তাঁর লেখা কিছু নাটক এখনো মঞ্চস্থ করা হয় লন্ডনের থিয়েটারে; যেমন, 'মিসেস ওয়ারেন'স প্রফেশন', 'আর্মস এন্ড দ্য ম্যান', 'ক্যানডিডা', এবং 'ইউ নেভার ক্যান টেল'। ভিক্টোরিয়ান যুগের লন্ডনের মঞ্চ মূলত ভাবপ্রবণ মঞ্চের পরিচায়ক ছিল। কিন্তু শ লন্ডনের মঞ্চকে নৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবপরিদর্শনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
শ এর খ্যাতি এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে তার লেখনী, শৈলী এবং পটভূমিকা আরও স্পষ্ট ও সফল হতে থাকলো। 'সিজার অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা', 'ম্যান অ্যান্ড সুপারম্যান', 'মেজর বারবারা', 'দ্য ডক্টরস ডিলেমা' প্রভৃতি নাটক তাঁর পরিণত ভাবনাকে তুলে ধরলো। তাঁর একটা নাটক 'জন বুল'স আদার আইল্যান্ড'(১৯০৪) দেখে রাজা ষষ্ঠ এডওয়ার্ড হাসতে হাসতে চেয়ার ভেঙে ফেলেছিলেন, যা শ এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
১৯১০ সালের দিকে জর্জ বার্নার্ড শ একজন বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত 'ফ্যানি'স ফার্সট প্লে' এবং 'পিগম্যালিয়ন' লন্ডন সিনেমা হলে দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল। 'পিগম্যালিয়ন' নাটকটির জন্য তিনি ১৯৩৪ সালে অস্কার পেয়েছিলেন। শ'ই একমাত্র মানুষ যিনি সাহিত্যে নোবেল এবং অস্কার দুটিই পেয়েছিলেন। তিনি নোবেল পুরস্কার নিতে প্রথমে রাজি না হলেও পরে তাঁর স্ত্রীর অনুরোধে তিনি নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে রাজি হন।
১৯১৪ সালে ইউরোপ জুড়ে শুরু হল বিশ্বযুদ্ধ। ইংল্যান্ডও জড়িয়ে পড়ল সেই যুদ্ধে। তিনি ছিলেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তিনি চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড শান্তি স্থাপনের জন্য এগিয়ে আসুক। যুদ্ধের পরেই লিখলেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক ‘সেন্ট জোয়ান’- জোয়ান অব আর্কের জীবন অবলম্বন করেই তিনি লিখলেন এই নাটক। এই নাটক তাঁকে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী হিসাবে পৃথিবীর মানুষের কাছে সম্মান এনে দিল। সমগ্র পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে লাগল সম্মান আর অভিনন্দন।
তাঁকে তুলনা করা হয় মহান-চিন্তানায়ক ভলতেয়ারের সঙ্গে। 'জর্জ বার্নার্ড শ' সামাজিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ শিল্পীর মতো সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। শিক্ষা, বিয়ে, ধর্ম, সরকার, স্বাস্থ্যসেবা সহ সব শ্রেণি সুবিধাই ছিল তাঁর লেখার বিষয়বস্তু। অধিকাংশ লেখাতেই শ্রমজীবী মানুষের শোষণের বিপক্ষে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। লেখার মাধ্যমে একদিকে যেমন আদর্শবাদের ধ্বজা ওপরে তুলে ধরেছেন, তেমনটি মানবিকতারও জয়গান গেয়েছেন। অসাধারণ কৌতুকের মাধ্যমে সবার হৃদয়কে আন্দোলিত করেছেন। লেখার মধ্যে থাকতো অসাধারণ কাব্যিক সৌন্দর্য। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, 'উইলিয়াম শেক্সপিয়ার' এর পর 'জর্জ বার্নার্ড শ'-ই হলেন সেরা ব্রিটিশ নাট্যকার। তাঁর মতো সাহিত্য সমালোচক বিশ্ব সাহিত্যে দুর্লভ। সুকৌশলে তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে নিজের জীবন দর্শনের পরিচয় দেন আর পচাগলা সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন।
বয়েসের সাথে সাথে ক্রমশই আরো স্থির প্রশান্ত হয়ে আসছিলেন। তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের বিবেক। ১৯৩৮ সালে লন্ডনের বসবাস উঠিয়ে দিয়ে আইয়ট সেন্ট লরেন্সের নির্জন প্রকৃতির বুকে ঘর বাঁধলেন। বয়েসের ভারে দেহ নুয়ে পড়েছিল। কিন্তু মন চির নবীন সবুজ সতেজ, প্রাণশক্তিতে ভরপুর। তাঁর জীবিতকালেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন শিল্প, সাহিত্য, নাটক, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমস্ত বিষয়েই বিশ্বের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। তাঁর বিচিত্র চরিত্রের মধ্যে সর্বদাই ফুটে উঠত প্রখর। ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাথে একটি মানুষের তুলনা করা যায়, তিনি ভলতেয়ার। তাঁরই মত তিনি গলা পচাখচা সমাজকে ব্যঙ্গ আর বিদ্রুপে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন-এই দূষিত সমাজ ধ্বংস হোক, তার জায়গায় গড়ে উঠুক নতুন সমাজ। নিজের মতকে প্রকাশ করতে তিনি কখনো সামান্যতম দ্বিধাগ্রস্ত হয়নি।
১৯৫০ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর বাগানে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন। লন্ডনে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা হল কিন্তু আর সুস্থ হলেন না। ক্রমশই তাঁর স্বাস্থ্যর অবনতি হল। অবশেষে ২রা নভেম্বর ভোরের আলো ফোটবার সাথে সাথে বার্নার্ড শ এর জীবনের আলো নিভে গেল। তখন তাঁর বয়স চুরানব্বই।
(তারিণী খুড়ো)

ভালো লাগলো লেখাটা
উত্তরমুছুন